Halloween Costume ideas 2015
May 2026
অপরাধ অর্থ ও বাণিজ্য আওয়ামী লীগ আড়াইহাজার আদালত আন্তর্জাতিক উত্তরা পূর্ব থানা কাঁচপুর কুমিল্লা খেলাধুলা গজারিয়া গণমাধ্যম গাজীপুর চট্টগ্রাম জাতীয় জামপুর জামায়াত ঢাকা তথ্যপ্রযুক্তি থানা প্রশাসন দাউদকান্দি ধর্ম নরসিংদী নারায়ণগঞ্জ নোয়াখালী নোয়াগাও পর্যটন ও পরিবেশ পিরোজপুর পৌরসভা প্রশাসন ফতুল্লা বন্দর বরগুনা বারদী বিএনপি বিনোদন বৈদ্যের বাজার ভারত ভুলতা মুন্সিগঞ্জ মোগরাপাড়া রাজনীতি রাজনীতি. রাজনীতি. বিএনপি রাজনীতি.মোগরাপাড়া রাজশাহী রূপগঞ্জ র‌্যাব র‌্যাব-11 শম্ভুপুরা শিক্ষা শিক্ষা ও সংস্কৃতি শিবির সন্মান্দি সংস্কৃতি সাদীপুর সাভার সারাদেশ সিদ্ধিরগঞ্জ সিভিল প্রশাসন সিলেট সেনা সোনারগাঁও স্বাস্থ্য কথা হাইওয়ে পুলিশ


সোনারগাঁও দর্পণ :

সোনারগাঁওয়ে তৃষা (২১) নামে এক গৃহবধুকে নির্যাতন পরবর্তী শ্বাসরোধে হত্যার পর তা আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নিহতের স্বামী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। রবিবার (৩১ মে) সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ভাদুড়িকান্দা গ্রামে আরজু মিয়ার বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। 

নিহত তৃষার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, তৃষার বাবার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হলেও তিনি তার নানার বাড়ি সোনারগাঁওয়ের জামপুর ইউনিয়নের ৫ নংওয়ার্ডের কদমতলী প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন মৃত আবুল কাসেমের বাড়িতে তার নানির সাথে থাকতেন। তার বাবার নাম মৃত নুরুল ইসলাম।

নানার বাড়িতে বসবাসের সুবাদে স্থানীয় ভাদুড়িকান্দা গ্রামের আরজু মিয়ার ছেলে সোহাগের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৫ বছর আগে উভয় পরিবারের কাউকে না জানিয়ে তৃষা ও সোহাগ বিয়ে করে নেয়। 

তৃষার মা রুবি আক্তারের অভিযোগ, বিয়ের পর প্রথম দিকে তারা তৃষা ও সোহাগের বিয়ে মেনে না নিলেও পরবর্তীতে মেনে নেন। সোহাগ রাজ মিস্ত্রি’র কাজ করলেও ছিল ভবঘুরে ও অলস প্রকৃতির। একদিন কাজ করলে এক সপ্তাহ বসে আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে দিন পার করতো। ৫ বছরের সাংসারিক জীবনে তাদের কোন সন্তান না হওয়ায় গত ছয় মাস ধরে প্রায়ই তৃষাকে শারীরিক নির্যাতন করতো।

ঈদের অবসরে তৃষার বাবার বাড়িতে তাদের কিছু আত্মীয়স্বজন আসলে তৃষাকে তার মা ফোনে জানায় এবং তৃষা বাড়িতে যেতে পারবে কি-না জানতে চায়। তৃষা তার স্বামীর সাথে কথা বলে তার মাকে জানাবে বলে জানায়। পরে তৃষা কিছু না জানালে আবারো ফোন করলে ফোনে তৃষার মৃত্যু সংবাদ পায় তার মা।

স্বামী সোহাগের পাশের বাড়ির এক নারী জানায়, তৃষার বাবার বাড়ি যাওয়া-না যাওয়া নিয়ে তৃষা ও সোহাগের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে শুনতে পাই তৃষা আত্মহত্যা করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সোহাগের অভাবের সংসার জেনেও তৃষা প্রেম করে সোহাগকে বিয়ে করেছে। কিন্তু অভাবের সংসার হলেও সোহাগ ছিল প্রচন্ড নারী লোভী। কিছুদিন আগেও স্থানীয় এক নারীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় হাতে নাতে ধরে স্থানীয়রা। পরে স্থানীয়ভাবে মিমাংসা হয়। শালিসে সোহাগকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয়েছে। এ সকল বিষয় নিয়েও তৃষার সাথে ওই ঘটনার পর সোহাগের ঝগড়া হয়। ওই সূত্রের জোর দাবি, সোহাগ তৃষাকে মেরে মেম্বার মোতলেব ও স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিকদের সমন্বয়ে ঘটনাটি আঁতাতের মাধ্যমে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করি হচ্ছে। 

এ ব্যাপারে জামপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) মোতালেব এর মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি কোন সাড়া দেননি। 

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া তালতলা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সেলিম মিয়া বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করছি। তারপরও লাশ পোষ্টমর্টেমের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। পোষ্টমর্টেম প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। 

এ ব্যাপারে নিহতের বড় ভাই সেতু সোনারগাঁও থানায় মামলা করবেন বলে জানা গেছে।



সোনারগাঁও দর্পণ 

পাওনা মাত্র ৩৬ হাজার টাকা না দিয়ে দাফন কাজের প্রস্তুতি নেওয়ায় মৃত ব্যক্তির জানাজা আটকে দিয়েছেন ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। পরে পাওনা ৩৬ হাজার টাকা পরিশোধের পর মৃতের জানাজা দাফন কাজ সম্পন্ন করেন পরিবারের সদস্যরা।

অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সন্মান্দি ইউনিয়নের মশুরাকান্দা গ্রামে।

মৃত গোলজার হোসেনের পরিবারের সদস্যরা জানায়, গোলজার হোসেন এবং সনমান্দী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম প্রধানের মধ্যে কারণে দেনা-পাওনা ছিল। যা গোলজারের পরিবার জানতো। গোলজার মারা যাওয়ার পর শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে তার জানাজার জন্য মরদেহ মশুরেরকান্দা ঈদগাঁহ মাঠে নেওয়া হয়।

এ সময় সনমান্দি ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম প্রধান তার পাওনা ৩৬ হাজার টাকার জন্য জানাজা কাজে বাঁধা দেন।

মৃত গোলজারের স্বজনরা জানান, গোলজার দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। পবিত্র ঈদুল আযহার দিন তিনি মারা যান।  বিএনপি নেতা সায়েমের সাথে ব্যবসায়িক কিছু লেনদেন ছিল, যা থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু মাত্র ৩৬ হাজার টাকার জন্য দীর্ঘ দিনের ব্যবসায়িক বন্ধুর জানাজা আটকে দিবে তা আমরা কখনো ভাবিতে পারিনি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

মৃত গোলজারের কিশোর ছেলে জিসান (১২) জানায়, তারা সংসারে দুই ভাই, এক বোন এবং তার মা রয়েছেন। বাবার কাছে পাওনা টাকার বিষয়টি আমাদের জানিয়েছিলেন। বাবা মারা যাওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম দাফনের পর একটা সময় করে সকলের পাওনা টাকা পরিশোধের বিষয়ে কথা বলে দেনা-পাওনা শেষ করবো। কিন্তু যে ঘটনাটা ঘটোনো হয়েছে তা খুবই দুঃখজনক।

অভিযুক্ত সায়েম বলেন, গোলজারের কাছে টাকা পাওনা ছিলাম। বহুবার তাগাদা দেওয়ার পরও টাকা না দেওয়ায় আমি টাকার জন্য এ কাজ করতে বাধ্য হয়েছি। টাকা পেয়ে আমি চলে আসি।

এদিকে, জানাজায় উপস্থিত শত শত স্থানীয় এলাকাবাসী এ ঘটনাটিকে অত্যন্ত অমানাবিক ও মর্মান্তিক হিসেবে অবহিত করেছেন।

 সোনারাগাঁও দর্পণ

ডাকাতি করতে গিয়ে গ্রামবাসীর হাতে তিন ডাকাত ধরা পরেছে। পরে ধৃত ডাকাতদেরকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে গ্রামবাসী। বুধবার (২৭ মে) রাতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের কাজিরগাঁও এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, ইউনিয়নের চরগেয়ালদী মীর বহরকান্দী গ্রামের মৃত শফিকুলের ছেলে রানা (৪৫) ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা তিনটি গাড়িতে করে দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ কাজীরগাঁও এলাকায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে পাশ্ববর্তী কাজিরগাঁও গ্রামে একদল ডাকাত একত্রিত হচ্ছিল । স্থানীয়বাসীন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে চরগেয়ালদী মীর বহরকান্দী গ্রামের মৃত শফিকুলের ছেলে রানাসহ তিনজনকে আটক করে। আটকের সময় তাদের কাছ থেকে চাঁপাতি, চাইনিজ কুরাল এবং ধারালো চাকু এবং বেশ কয়েকটি ইয়াবা উদ্ধার করে।

সোনারগাঁও থানার এএসআই মো. হায়দার মিয়া জানান, আমি একটি মামলার তদন্ত করতে কাজিরগাঁও গ্রামে যাই। সে সময় ওই গ্রামবাসী তিনজন ব্যক্তিকে আটক করে আমাদের হাতে তুলে দেন। আমরা পেশাগত দায়িত্ববোধ থেকে তাদের থানায় নিয়ে আসি। রানাসহ তিন জন আটকের খবরের সত্যতা স্বীকার করলেও বাকি দুইজনের নাম তদন্তের স্বার্থে কিছু বলেননি বলে জানান। 

বর্তমানে (২৭ মে) আটককৃতদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। তাদের কাছ থেকে চাঁপাতি, চাকুসহ কিছু দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের নামে কোন মামলা আছে কি-না। থাকলে সে মামলায় তাদের আদালতে পাঠানো হবে।

এরআগে, গত ৭ মে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে চরগেয়ালদী মীর বহরকান্দী গ্রামের মৃত শফিকুলের তিন ছেলে রানা (৪৫), রাজু (৩৮) রাজিব (৩৬) এবং হযরত আলীর ছেলে জলিল ওরফে দালাল জলিল (৫৫) এর নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকার ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দেশীয় এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে একই এলাকার আলিম মিয়ার ছেলে প্রবাসী আবু কালামের বাড়িতে প্রথম হামলা করে। 

বাড়ির নারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সাত ভরি স্বর্ণ, লাখ নগদ টাকা, ৫টি মোবাইল, একটি ল্যাপটবসহ বিভিন্ন দামি জিনিসপত্র নিয়ে যায়। পরে একই এলাকার রমিজের বাড়িতে স্ব-সস্ত্র ডাকাত দল হামলা করে নগদ টাকা স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। 

 

সোনারগাঁও দর্পণ :

দেশবাসীকে পবিত্র ঈদ উল আজহার অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৬মে) রাত ১১ টার দিকে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজ এ এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এ শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। 

সোনারগাঁও দর্পণ এর পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বাণী হুবহু তুলে ধরা হলো - 

“ত্যাগের পরাকাষ্ঠা, তাকওয়ার মহিমান্বিত পথনির্দেশনা এবং আত্মশুদ্ধির অনন্য বার্তা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বছর ঘুরে আবারও বিশ্ব মুসলিমের দুয়ারে হাজির পবিত্র ঈদুল আজহা। আমি পবিত্র ঈদুল আজহার এই শুভক্ষণে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে জানাই ঈদ মুবারক। ”

“বিশ্ববাসীকে জানাই পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা। ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মুসলমান পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের জন্য প্রস্তুত। ইসলামের মহিমান্বিত এই উৎসব শুধু একটি আনন্দ-উৎসবই নয়, বরং তা স্রষ্টার প্রতি গভীর বিশ্বাস, আত্মনিবেদন এবং ত্যাগের এক চিরন্তন বার্তা বহন করে। ”

“মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অটল ঈমান, নিঃশর্ত আনুগত্য এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই দিবসকে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে মহিমান্বিত ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।পবিত্র ঈদুল আজহায় আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের ত্যাগ কবুল করেন। ”

“আমাদের মাতৃভূমিসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ও মানবজাতির জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা দান করেন। একইসঙ্গে আমি বিশ্বজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি এবং নিরাপত্তার জন্যও মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করছি।ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক এই পবিত্র ঈদুল আজহা। আল্লাহ আমাদের কোরবানি ও ইবাদত কবুল করে নিন। তাঁর অশেষ রহমত ও বরকতে আমাদের জীবন ভরে উঠুক শান্তি ও সমৃদ্ধিতে।”


সোনারগাঁও দর্পণ :

বেতন-বোনাস পরিশোধ না করায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছে পোশাক শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার ‘চৈতী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক’ গার্মেন্টসের শতশত বিক্ষুব্ধ নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা এ আন্দোলন করে। এর ফলে মহাসড়কের মেঘনা টোল প্লাজা  থেকে মদনপুর পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কে তীব্র যানজটে সাধারণ যাত্রীরা চরম বিপাকে পরেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোনারগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়ে পিছু হটে। পরবর্তীতে পুলিশ ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে পূণরায় শ্রমিকদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে ব্যর্থ হয়ে টিয়ারসেল ছুড়লে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শ্রমিক সূত্রে জানাগেছে, আগামী ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আযহা। সরকারের পক্ষ থেকে ২৫ মে এর মধ্যে শ্রমিকদের সকল প্রকার বেতন-বোনাস পরিশোধের নির্দেশনা থাকলেও চৈকি কম্পোজিট লিমিটেড এখনো শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস সম্পূর্ণ পরিশোধ না করায় সোনারগাঁওয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। 

শ্রমিকরা জানায়, গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ সরকারের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শ্রমিকদের ২০ দিনের বেতন ২৫ হাজার টাকা পাওনা না করে মাত্র ৬ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে এবং বাকি টাকা ঈদের পর দেওয়া হবে বলে জানায়। তারা জানায়, একে হচ্ছে দ্রব্যমূল্যের চড়া দাম অপরদিকে, ঈদ আসন্ন। এই সামান্য টাকা দিয়ে আমরা কীভাবে পরিবার নিয়ে ঈদ করব ভেবে পাচ্ছিনা। তাই বাধ্য হয়েই আমরা বেতন-বোনাস আদায়ের দাবিতে মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছি। 

চৈতি গার্মেন্টের এজিএম মিজানুর রহমান দাবি করেন প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ৮ হাজার শ্রমিক কাজ করে। তাদের সকল পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে। শ্রমিকদের মধ্যে দুই তিনশো শ্রমিকদের অর্জিত ছুটির টাকা বাকী রয়েছে যা ঈদের পরপরই পরিশোধ করা হবে। তারপরও তারা বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে, আমরা বিষয়টি যত দ্রুত শেষ করা যায় সেই চেষ্টা করছি।

সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা শুরু থেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে বকেয়া টাকার দাবিতে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমরা মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি যেন দ্রুত একটি সমঝোতায় আসা যায়। অফরদিকে, মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আবারো কথা বলি। তারা কথা না শুনলে দুই রাউন্ড টিয়ারসেল ছুড়তে বাধ্য হই। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম শেখ বলেন, মহাসড়ক অবরোধের কারণে মেঘনা টোল প্লাজা থেকে মদনপুর পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঘরমুখী সাধারণ মানুষ ও রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সগুলো আটকে পড়েছে। আমরা অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছি এবং শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 



সোনারগাঁও দর্পণ :

সোনারগাঁও প্রেস ক্লাবের-এর সদস্য, তরুণ আইনজীবী খন্দকার মাজেদুল ইসলাম সম্রাট। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি পারমিশন পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে। 

যথেষ্ট সম্ভাবনাময় তরুণ আইনজীবী খন্দকার মাজেদুল ইসলাম সম্রাট নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের কৃতি সন্তান। ছাত্র জীবনে তিনি যেমন তার শিক্ষা ক্ষেত্রে সফলতার স্বাক্ষর রেখে পরিবারের সম্মান রক্ষা করেছেন কর্মজীবনে আসার পর তিনি সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কর্মজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতার মাধ্যমে পেশাগত স্থানেও সফল হয়ে যাচ্ছেন। 

নারায়ণগঞ্জ জজকোর্টে তার আইনপেশা শুরুর পর একাধিক চাঞ্চল্যকর মামলা পরিচালনা করে ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সোনারগাঁও থানার সাবেক ওসি ও এসআই-এর বিরুদ্ধে মামলা, সোনারগাঁও প্রেস ক্লাবের পক্ষে দায়েরকৃত মামলা, সোনারগাঁয়ের এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মামলা, দড়িকান্দি জামে মসজিদের পক্ষে মামলা, সাংবাদিক গাফফার লিটনের ওপর প্রকাশ্য হামলার ঘটনায় পরিচালিত মামলাসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি দক্ষতা, সাহসিকতা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে ন্যায় বিচার পাওয়ায় আদালতের ওপর মানুষের আস্থা অর্জনে ভূমিকা রেখেছেন। 

সম্প্রতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি পারমিশন পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে সেবা কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করায় সোনারগাঁও দর্পণ এর পক্ষ থেকে এডভোকেট খন্দকার মাজেদুল ইসলাম সম্রাটকে আন্তরিক অভিনন্দন ও সাধুবাদ।

সম্প্রতি তাঁর এই গৌরবময় অর্জন কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং সাংবাদিক সমাজ, আইন অঙ্গন এবং সোনারগাঁওবাসীর জন্যও গর্বের। অধ্যবসায়, মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত এই সাফল্য তাঁর পেশাগত জীবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।



সোনারগাঁও দর্পণ: 

রামিসা, আছিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সোনারগাঁ উপজেলা খেলাঘর। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও প্রেস ক্লাবের সামনে শুক্রবার (২২ মে) সকালে মানববন্ধনে খেলাঘরের সদস্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

পরে  প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ সভা হয়। খেলাঘরের সংগঠক মাহবুবুল ইসলাম সুমনের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন হাসি আলম, সাধারণ সম্পাদক রাজা রহমান, শিশু সাহিত্যিক ও সিসিমপুরের সাবেক কান্ট্রিডিরেক্টর শাহ আলম, খেলা ঘরের সদস্য কাজী নাজমুল ইসলাম লিটু, উপজেলা উদিচি সভাপতি শংকর প্রকাশ, সোনারগাঁও প্রেসক্লাবের যুগ্ন-সম্পাদক রবিউল হুসাইনসহ অনেকে। 

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, শিশুদের ওপর নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা দিন দিন উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। দেশের রাজনীতিবিদরা ভারতবিরোধী নিয়ে ব্যস্ত, অথচ দেশের শিশুরা দিনের পর পর ধর্ষিত, নির্যাতিত পরবর্তী হত্যার শিকার হচ্ছে সেদিকে কোন খেয়াল নেই। 

এ সময় একটি রাজনৈতিক দলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, নিজেদের মধ্যে কাঁদা ছোড়াছুড়ি বাদ দিয়ে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ এবং দেশের শিশুরা কিভাবে নিরাপদ থাকবে সে দিকে নজর দিয়ে কাজ করে দেশকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাওয়ার আহবান করেন। 

বক্তারা বলেন, গত প্রায় দেড় বছরে দেশে ৫৮০ জন শিশু ধর্ষণ এবং হত্যার শিকার হয়েছে। এরমধ্যে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে ৪৮৩টি শিশু। তখন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাড়ায় তা ভাববার সময় এসেছে। 

বক্তারা আরও বলেন, আমাদের শিশুরা বর্তমানে কোথাও নিরাপদ নেই। সরকারের খুব দ্রুততম সময়ে এমন কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ যেন শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা কোন রকম শঙ্কায় না থাকে।

বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী রামিসার বাড়িতে গিয়ে দ্রুততম সময়ে রামিসা হত্যার বিচার পাওয়ার যে আশ^াস দিয়েছেন তা শুধু কথায় নয়, কাজে এর প্রতিফলন দেখতে চান বলে জানান পাশাপাশি শুধু রামিসাই নয়, কোন ঘটনা ঘটলেই তা নিয়ে রাজনীতি না করে কোন ঘটনা ঘটার আগেই যেন শিশুরা নিরাপদ থাকতে পারে সে ব্যাপারে সোচ্চার হয়ে কাজ করার আহবান জানান। 

তারা বলেন, শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ধর্ষক ও হত্যাকারীদের কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয়ে ছাড় দেওয়া যাবে না।


সোনারগাঁও দর্পণ :

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ পরবর্তী গলা কেটে খুন হওয়া শিশু রামিসার বাড়ি গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত পোনে ১০টার দিকে তিনি রামিসাদের পল্লবীর বাড়িতে যান এবং রামিসার পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করেন। 

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করে সর্বোচ্চ বিচারের আশ্বাস দেন।



সোনারগাঁও দর্পণ :

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ পরবর্তী গল কেটে খুন হওয়া শিশু রামিসার বাড়ি. যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে তিনি রামিসার বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে এ বিষয়টি জানা গেছে।



সোনারগাঁও দর্পণ : 

নদী খনন (ড্রেজিং) এর নামে রাতভর অবৈধভাবে বালু কেটে নিয়ে যাচ্ছে বালু খেকো চোরের দল। সূর্য ডোবার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনা নদীতে শুরু হয় বালু খেকোদের দৌরাত্ব। আর এ কাজে স্থানীয় একাধিক কথিত সাংবাদিক ও রাজনীতিকদের সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেট ও প্রশাসনের পরোক্ষ সহযোগিতা রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। 

গত ১০ মে শুরু হওয়া অবৈধ এ কাজে শুধু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক সকল খরচ বাদে ৭ দিনে ৩৮ লাখ ৪৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ঠিকাদার সংশ্লিষ্ট একাধিক বিশ^স্ত সূত্র দাবি করেছে। 


সূত্রের দেয়া তথ্য মতে, গত ১১দিন ধরে অবৈধ বালু চুরির সাথে মোট ১৫ থেকে ২০ টি ড্রেজার দিয়ে রাতের আঁধারে উপজেলার আনন্দ বাজার গরুর হাটের অদূরে মেঘনার মোহনা থেকে বালু উত্তোলন করছে একদল বালু চোর। আর এ কাজে সহায়তা করছে সুবিধাবাদি নেতা নেতা হিসাবে ব্যাপক পরিচিত, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান এমপির আস্থাভাজন মাসুম রানা, মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল বারেক এবং নলচর গ্রামের হাবিবুল্লাহর ছেলে রবিউল্লাহ রবিসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। এছাড়া, স্থানীয় একাধিক কথিত সাংবাদিকও জড়িত। ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা অজ্ঞাত কারণে চোখে কাঁঠের চশমা আর নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছেন।

যদিও অবৈধভাবে এ বালু উত্তোলনের ফলে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, একাধিক শিল্প কারখানা, পাঁচটি গ্রামের মানুষ এবং একটি বাজারে থাকা ব্যবসায়ীদের চোখের ঘুম ইতোমধ্যে হারাম হয়ে গেছে। আগামী বর্ষায় ভাঙ্গনের কবলে এ সকল স্থাপনা আর গ্রামগুলো বিলিন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। 

এদিকে, রাতের আধাঁরে বালু চুরির ঘটনা (ছবি ও ভিডিও) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হলে স্থানীয় নেটিজনদের বিভিন্ন মন্তব্য করতে দেখা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, চোরাই বালু উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত ড্রেজারের মধ্যে স্থানীয় সাংবাদিকদের নামেও দুটি ড্রেজার বালু উত্তোলন করছে। তার মধ্যে দেশের প্রথম সারির অন্যতম দুটি পত্রিকার দুই সাংবাদিকের নামে একটি এবং অপর একটি পত্রিকার সাংবাদিকের নামে আরও একটি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে ড্রেজার বসানো কথিত সাংবাদিকদের মাধ্যমে রাখা হয়েছে সাংবাদিক নামধারী আরও কিছু দালাল। 

নাম প্রকাশে অন্য একটি সূত্র দাবি করে, উপজেলা বিএনপির অন্যতম শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা এ বালু উত্তোলনের সাথে পরোক্ষভাবে জড়িত থাকায় প্রশাসন এবং রাজনৈতিকভাবে কোন প্রতিকারের চেষ্টাও কেউ করছেনা। 

তবে, দিনের বেলায় একটি ১২ ইঞ্চি কাটিং ড্রেজার দিয়ে নদী খননের কাজ করতে দেখা গেছে বলে একটি সূত্র জানায়। 


যদিও সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাতের দাবি, ‘বিআইডব্লিউটিএ’র অনুমতি সাপেক্ষে নদী খননের কাজ চলছে। আর বালু উত্তোলনের বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি আরও বলেন, রাতে বালু কাটার কোন আইন নেই। এছাড়া, উপজেলা প্রশাসনের পর্যাপ্ত লোকবলসহ কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। 

তবে, ‘বিআইডব্লিউটিএ’ যদি উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চায় এবং পর্যাপ্ত লোকবল দেয় সে ক্ষেত্রে তিনি অভিযান পরিচালনা করতে পারবেন বলে জানান। 

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) থেকে মুন্সীগঞ্জের চাকদা ড্রেজিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (প্রাইভেট) লিমিটেড মেঘনা নদী খননের অনুমতি পায়। দরপত্র অনুযায়ী দেশের প্রচলিত নিয়ম-নীতি মেনে আনন্দবাজার হাট থেকে বারদি পর্যন্ত সাড়ে ৪ কিলোমিটার নদী ১৮ ইঞ্চি কাটিং ড্রেজার দিয়ে খনন করে উত্তোলিত বালু নদী পাড়ে ডাম্পিং এর পর নিয়মিত বিরতিতে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করার কথা। কিন্তু বাস্তবে প্রচলিত নিয়ম রীতির তোয়াক্কা না করে সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত রাতভর লোডিং ড্রেজার দিয়ে দরপত্র অনুযায়ী নদী খনন না করে প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষ তার ইচ্ছা মতো বেশ কিছু ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে এ বালু উত্তোলন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। 


পিরোজপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুম রানাকে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাঈমা ইসলামের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, জেলা প্রশাসন থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ। সম্প্রতি কাউকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে আমার জানামতে, বিআইডব্লিউটিএ এর একটি প্রকল্পের কাজ সোনারগাঁও উপজেলায় চলমান বলে আমি শুনেছি। এ ব্যাপারে তারাই (বিআইডব্লিউটিএ) ভালো বলতে পারবে।

বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ এর তত্ত্বাবধায়ক (ড্রেজিং) আব্দুর রহমান বলেন, প্রথমতো বালু উত্তোলনের কোন অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার বিআইডব্লিউটিএ এর নেই। দ্বিতীয়ত, রাতের বেলা ড্রেজিংয়ের অনুমতিও নেই। তৃতীয়ত, আমাদের কাজ (ড্রেজিং) করতে হলে ১৮ ইঞ্চি কাটিং ড্রেজার দিয়ে দিনের বেলা করতে হয়। এর বাইরে কোন কাজ করা বা বালু উত্তোলনের অনুমতি আছে বলে আমার জানা নেই।

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে ঠিকাদার মোমেন সিকদার (১৯ মে) বলেন, ড্রেজিংতো বালু উত্তোলনের আওতায়ই। তবে, ডিসি অফিস থেকে যেভাবে চর কাটার অনুমতি দেওয়া হয় সে রকম না। কোন বালু বিক্রি করিনা আমি। কোন বালু উত্তোলনও করিনা। মাত্র আমার একটা ড্রেজার স্পটে আসছে, ফিটিং হয় নাই এখন পর্যন্ত। 

যারা বালু কাটার দায়িত্বে আছে তারা আপনার কথা বলছে এবং আপনার নাম্বারটা তাদের কাছ থেকেই পেলাম। এমন প্রশ্নের জবাবে মোমেন শিকদারের ফিরতি প্রশ্ন কই আছে ড্রেজার ? কোথায় কাটতেছে ? 

যে ড্রেজার আসছে সেইটাতে সুন্দর করে ব্যানার টাঙ্গানো আছে, যেখানে লিখা ‘বিআইডব্লিউটিএ’ এর অনুমোদিত বালু খনন প্রকল্প। অকপটে আরেকটি ড্রেজার দিয়ে বালু পরতেছে স্বীকার করে পরক্ষণেই সেই ড্রেজারও তার নয় বলে দাবি করেন মোমিন শিকদার। ওই ড্রেজারটি দায়েন বা ডালিম নামে একজনের বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি জানান, তিনি বারদী থেকে বৈদ্দেরবাজার পর্যন্ত সাড়ে ৪ কিলোমিটার নদী ড্রেজিংয়ের কাজ পান বিআইডব্লিউটিএ’ এর কাছ থেকে। কাজ পাওয়ার অনুমতির কাগজ চাইলে তিনি এক কথিত সাংবাদিককে ফোন ধরিয়ে তার সাথে কথা বলতে বলেন। ফোনের ওপাশ থেকে কথা বলতে আসার ব্যক্তি প্রতিবেদকের নাম জানতে চাইলে নাম বলার পরই ফোনটি পূণরায় মোমেন শিকদারের কাছে ফেরত দেন। পরে তিনি প্রতিবেদককে তার কলাপাতা রেস্টুরেন্টের অফিসে যাওয়ার কথা বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।



সোনারগাঁও দর্পণ :

মাত্র ১০ টাকা চাঁদা দেওয়া-না দেওয়া দ্বন্দ্বে পরিবহন চাঁদাবাজদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি রিক্সাচালক মমিনুল মিয়া (৪০)। রবিবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের সনমান্দী ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটলেও দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় থাকার পর বুধবার (২০ মে) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন মমিনুল। নিহত মমিনুল নাজিরপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে।

এদিকে, মমিনুলের মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পরলে স্থানীয় কয়েকগ্রামের মানুষ জড়ো হয়ে হত্যার প্রতিবাদে ও দোষিদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম সংলগ্ন দড়িকান্দী-বাংলাবাজার সড়ক অবরোধ করে। যার বিরূপ প্রভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কিছুক্ষণ যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে যানবাহন শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীদের পরতে হয় বিড়ম্বনায়। 

স্থানীয়রা জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে স্থানীয় রাজনীতিবিদদের ছত্রছায়ায় স্থানীয় শাহীন, মজনু, মোহন, সুমন, জাহাঙ্গীর ও রুপচাঁন মিয়ার সমন্¦য়ে গঠিত একটি চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট বাংলাবাজার-দড়িকান্দী অটো ও সিএনজি স্ট্যান্ডে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছিল। 

এরই ধারাবাহিকতায় গত রবিবার (১৭ মে) অটোরিকশা চালক মমিনুলের কাছে শাহিন ১০টা চাঁদা দাবি করে। মমিনুল তাকে এরআগে ওই দিনই টাকা দিয়েছে বলে জানায়। কিন্তু শাহিনের দাবি মমিনুল টাকা না দিয়ে মিথ্যা কথা বলছে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি পরবর্তী হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় শাহিনের সাথে থাকা অন্যান্য সহযোগিরা এসে মমিনুলকে বেধরক পিটিয়ে আহত করে। অবস্থা বেগতিক দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মমিনুলকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে বুধবার (২০ মে) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। 

এদিকে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটটি শুধু স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজিই করে না। তাদের বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে এলাকার মানুষও অতিষ্ট। তারা কতোটা নির্দয় ও নির্মম হলে মাত্র ১০টাকার জন্য একজন নিরিহ রিক্সাচালককে টিপিয়ে মেরে ফেলতে পারে। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করেন। 

নিহত মমিনুলের মৃত্যুতে পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হারিয়ে অসহায় হয়ে পরা তার স্ত্রী রিনা বেগম স্বামী হত্যার বিচার চান এবং আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি অভিযুক্তদেরকে নিজ হাতে শাস্তি দিবেন বলে দাবি করেন। এ সময় তার ছোট ছোট দুইটি সন্তানকে নিয়ে কিভাবে ভবিষ্যতে জীবন নির্বাহ করবেন কান্নাজড়িত কন্ঠে তাও বারবার উল্লেখ করেন। 

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম শেখ জানান, বিক্ষোভকারীরা ১৫ মিনিটের মতো মহাসড়কে অবস্থান নেয়। পরে পুলিশের অনুরোধে তারা মহাসড়ক ছেড়ে দিলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।  

সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কে অবস্থানের পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সরিয়ে দিয়েছি। বিক্ষোভের সময় যান চলাচল কিছু ধীরগতি থাকলেও যানজট হয়নি। নিহতের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, সেটা মামলায় রূপান্তিরিত করা হবে। 



সোনারগাঁও দর্পণ:

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ফয়সাল (৩৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে সোনারগাঁও থানা পুলিশ। সোমবার (১৮ মে) দুপুরে উপজেলার পৌরসভার জয়রামপুর এলাকায় তার নিজ বাড়ির দোতলায় নিজ কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। 

স্থানীয়রা জানায়, ফয়সাল একই এলাকার ইব্রাহিম খলিলের বড় ছেলে। ব্যক্তি জীবনে ফয়সাল বিদ্যুৎ মিস্ত্রি হলেও এলাকায় মাদক সেবি এবং ব্যবসায়ী হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিল।

ফয়সালের ছোট ভাই ফাহিম জানায়, ফয়সাল মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকায় তার পরিবার তার (ফয়সাল) সাথে রাগ করে সাভার ভাড়ায় থেকে বসবাস করেন। তার বাবা প্যারালাইসিস রোগি। ফাহিম তেজগাঁও কলেজে হিসাবরক্ষণ বিভাগে অনার্স অধ্যয়নরত।

ফাহিম আরও জানান, ব্যক্তি জীবনে তার বড় ভাই ফয়সাল পারিবারিকভাবে প্রথম বিয়ে করেন কুমিল্লায় স্বর্ণা নামে এক নারীকে। বিয়ের পর ফয়সাল প্রথমে মাদক গ্রহণ এবং পরবর্তীতে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত হয়ে পরে। প্রথম স্ত্রী অনেক কষ্ট করে মাদক থেকে সুস্থ্য জীবনে আনার পর কাউকে না জানিয়ে স্থানীয় এলাকায় ভাড়া থাকা রংপুরের এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করে। মুলত দ্বিতীয় বিয়ের পর সে এলাকায় চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি পায়। তার পর থেকেই তাদের সংসারে অশান্তি শুরু হয়। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাশের বাড়ির এক পরশি জানান, সপ্তাহ দুয়েক আগেও ফয়সালের দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে ফয়সালের ঝগড়া হয়। সে সময় তার স্ত্রী ফয়সালকে শারীরিক নির্যাতনও করেন। প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হলে ওই মহিলা ফয়সালকে শারীরিক নির্যাতন করতো। 

ফয়সালের বিদেশ ফেরত এক চাচাতো ভাই জানায়, গত শুক্রবার ফয়সাল স্থানীয় মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করেন। এরআগে, গাছের বিভিন্ন ফল পেরে আশেপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে বিলি করেন। তারমধ্যে কোন চিন্তা বা দুশ্চিন্তার ছাঁপ দেখা যায়নি। তবে, তার অর্ধগলিত মরদেহ দেখে ধারণা করা হয় কমপক্ষে দুদিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। 

ঘটনাস্থলে ফয়সালের মরদেহ যে কক্ষে ছিল সে কক্ষের বাহিরে একটি বিড়ালকেও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশের ধারণা, মৃতের শরীর থেকে যে সকল ময়লা বা পচাঁ রক্ত বের হয়েছে, সে রক্ত খেয়ে বিড়ালটির মৃত্যু হতে পারে। 

এ ব্যাপারে সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার জানান, প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলেই ধারণা করছি। তবে, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না দেখে নিশ্চিত কিছুই বলা যাচ্ছে না।


সোনারগাঁও দর্পণ :

হতভাগা কিশোরের মায়ের অভিযোগ, স্বাশরোধে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর ঘটনার সাথে জড়িতদের বাঁচাতে স্থানীয় প্রভাবশালীরা নিহত কিশোর আত্মহত্যা করেছে প্রচার করে তার সাথে অমানবিক কাজ করেছে। যা বারদী এলাকায় এটাই প্রথম।

থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ যাওয়ার পর পুলিশ কিশোরের মরদেহটি বারদী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড  এর বড় আলমদী শাউপারা গ্রামে  ্নএকটি নির্জস্থন বাগান থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।  

ঘটনার বর্ণনায় জানাগেছে, বারদি ইউনিয়ন গ্রাম পুলিশের নারী সদস্য ফুলেছা বেগমের চৌদ্দ বছরের কিশোর আশরাফুল’কে বৃহস্পতিবার শ্বাসরোধে হত্যা করেছে বারদী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড এর বড় আলমদি গ্রামের স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তির স্বজনরা। পরে ওই হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা বলে এলাকায় প্রচার করেন তারা। 

প্রভাবশালীরা এতেই ক্ষান্ত হয়নি, আশরাফুলের মৃত্যু সংবাদটি মসজিদের মাইক দিয়ে প্রচার করতেও দেওয়া হয়নি। এছাড়াও বাঁধা দেওয়া হয়েছে জানাজা আদায়ে এবং দাফনটাও করতে হয়েছে তার নিজ এলাকার বাইরে সন্মান্দিতে। 

পরে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় বিষয়টি অবগত করলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে বলে সূত্রটি জানায়।

এদিকে, স্থানীয় প্রভাবশালী ও আত্মীয়-স্বজনদের দ্বারা এমন অমানবিক কাজ অনেকেই মেনে নিতে পারছেনা। এ ব্যাপারে এলাকার সচেতন মহল বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করবে বলে জানাগেছে। 

সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সোনারগাঁও দর্পণ : 

সোনারগাঁওয়ের মেঘনা শিল্পাঞ্চলে ৭১৮ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্টের “জারা মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেড’র ক্যান্টিনে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ আমির  হোসেন নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। 

শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ওই ঘটনায় মোট দুই জনের মৃত্যু হলো। 

হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, আমিরের শরীরের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। এরআগে, গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় শংকর গোমেজ (২৫) নামে “জারা মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেড’র ক্যান্টিনের শেফ মারা যায়। 

হাসপাতালটির চিকিৎসক শাওন বিন রহমান জানান, ওই বিষ্ফোরনের ঘটনায় দগ্ধ আরও চারজন চিকিৎসাধীন রয়েছে। তারা সকলের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। 

এরও আগে, বুধবার (১৩ মে) দুপুর ১টার দিকে “জারা মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেড’র ক্যান্টিনের রান্না ঘরের গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিষ্ফোরণে কমপক্ষে ১২ শ্রমিক দগ্ধ হয়। দগ্ধদের ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এ পাঠানা হয়। 



সোনারগাঁও দর্পণ : 

সোনারগাঁওয়ের মেঘনা শিল্পাঞ্চলে ৭১৮ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্টের “জারা মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেড’র ক্যান্টিনে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ শেফ শংকর গোমেজ (২৫) এর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

নিহত শংকর গোমেজ নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের চিটাগুড়ি দিয়ারা পাড়া জোসি গোমেজের ছেলে।

রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান জানান, শংকরের শরীরের ৪৬ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এখন পর্যন্ত ৬ জনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। গুরুতর দগ্ধ ৫ জন এখনো চিকিৎসাধীন।

এরআগে, বুধবার (১৩ মে) দুপুর ১টার দিকে “জারা মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেড’র ক্যান্টিনের রান্না ঘরের গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিষ্ফোরণে কমপক্ষে ১২ শ্রমিক দগ্ধ হয়। দগ্ধদের ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এ পাঠানা হয়। 



সোনারগাঁও দর্পণ :

সোনারগাঁওয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাতদলের হামলায় বাড়ির কর্তা নজরুল ইসলাম (৫০) নিহত হয়েছেন। ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মুমুর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন নজরুলের স্ত্রী শাহনাজ বেগম (৪০)। বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের মুক্তিশপুর গ্রামে ডাকাতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহত নজরুল একই এলাকার নিহত গাজী মিস্ত্রির ছেলে।

ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ৫জনের মধ্যে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা তিনজনকে চিনতে পেরেছেন বলে পুলিশের কাছে জানান তারা। এরমধ্যে উজ্জল নামে এক জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক হওয়া উজ্জল একই এলাকার হাশেমের ছেলে। একই এলাকার ভাড়টিয়া ছইক্কার ছেলে দেলোয়ার এবং নিহতের আত্মীয় (মামাতো ভাই) নুর মোহাম্মদনের ছেলে আরাফাত নামে অপর একজনকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, নজরুল ইসলাম পেশায় একজন সুতা ব্যবসায়ী। বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে নজরুলের বাড়িতে অজ্ঞাত ব্যক্তি নজরুলের নাম ধরে ডাকেন এবং দরজা খুলতে বলেন। গ্রামের পরিচিত কেউ ভেবে দরজা খুলে দেন নজরুলের স্ত্রী শাহনাজ। পরক্ষণেই মুখোশ পরা দেশীয় অস্ত্র হাতে ৫-৭ জনের একদল ডাকাত নজরুল ও তার পরিবারের উপর হামলা চালায়।

আহত শাহনাজের বরাত দিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এলাকাবাসীর ভাষ্য মতে, দেশীয় অস্ত্র হাতে ডাকাতরা ঘরে প্রবেশ করেই নজরুল ও তার স্ত্রীর হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করে বাঁলিশ চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। বাঁলিশ চাপা ও শারীরিক নির্যাতনে শাহনাজ ইচ্ছাকৃতভাবে মরে যাওয়ার ভান করলে নজরুল ডাকাতদের চিনেছে, সকালে তাদের দেখে নিবে বলে হুমকি দেয়। এদিকে, ডাকাতদের ধস্তাধস্তিতে শাহনাজকে বাঁধ দেওয়া রশি (দড়ি)’র বাঁধ কিছুটা নড়বড়ে হয়ে যায়। তারপরও ইচ্ছাকৃতভাবে অচেতন হয়ে পড়ে থাকে।

এদিকে, ডাকাতদের এমন হুমকির পরই ডাকাতরা নজরুলকে নির্যাতন করে। তাদের মধ্যে দুই-একজন ঘরের চাবির সন্ধান করে চাবি নিয়ে ঘর থেকে স্বর্ণ, নগদ টাকা ও মোবাইল সেট নিয়ে যায়। তথ্যদাতার ভাষ্যমতে, ঘর থেকে ৬ ভরি স্বর্ণ, নগদ ৬০ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল সেট লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা।

পরে ডাকাতরা চলে গিয়েছে বুঝতে পেরে নজরুলের স্ত্রী শাহনাজ জোরে চিৎকার করলে আশেপাশের বাড়ির লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে এবং ডাকাতদের ধরতে স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে গ্রামবাসী বাহির হয়ে একই এলাকার হাশেমের ছেলে উজ্জলকে আটক করে। শাহনাজের ভাষ্যমতে, ওই ঘটনার সাথে স্থানীয় ভাড়াটিয়া দেলোয়ার এবং আরাফাত নামে অপর দুইজনকে চিনতে পেরেছেন। 

স্থানীয়রা জানান, নিহতের শরীরের গলা, বুকের ডান পাশে এবং বাহুর পেশির স্থানে কিছুটা চামড়া উঠানো দেখতে পান। দেখতে অনেকটা সরু ছিদ্র হওয়ার মতো। 

নিহতের ঘটনা স্বীকার করে সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। একজন আটক আছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আহত শাহনাজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিহতের লাশ জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক সাঈদ জানান, এটা কি ডাকাতি না-কি অন্য কিছু তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে মুল ঘটনা বলা সম্ভব। 


MKRdezign

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget