Halloween Costume ideas 2015

সোনারগাঁও দর্পণ

সর্বশেষ পোস্ট
অপরাধ অর্থ ও বাণিজ্য আওয়ামী লীগ আড়াইহাজার আদালত আন্তর্জাতিক উত্তরা পূর্ব থানা কাঁচপুর কুমিল্লা খেলাধুলা গজারিয়া গণমাধ্যম গাজীপুর চট্টগ্রাম জাতীয় জামপুর জামায়াত ঢাকা তথ্যপ্রযুক্তি থানা প্রশাসন দাউদকান্দি ধর্ম নরসিংদী নারায়ণগঞ্জ নোয়াখালী নোয়াগাও পর্যটন ও পরিবেশ পিরোজপুর পৌরসভা প্রশাসন ফতুল্লা বন্দর বরগুনা বারদী বিএনপি বিনোদন বৈদ্যের বাজার ভারত ভুলতা মুন্সিগঞ্জ মোগরাপাড়া রাজনীতি রাজনীতি. রাজনীতি. বিএনপি রাজনীতি.মোগরাপাড়া রাজশাহী রূপগঞ্জ র‌্যাব র‌্যাব-11 শম্ভুপুরা শিক্ষা শিক্ষা ও সংস্কৃতি শিবির সন্মান্দি সংস্কৃতি সাদীপুর সাভার সারাদেশ সিদ্ধিরগঞ্জ সিভিল প্রশাসন সিলেট সেনা সোনারগাঁও স্বাস্থ্য কথা হাইওয়ে পুলিশ


সোনারগাঁও দর্পণ :

পুলিশ সদর দপ্তর সারা দেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের ব্যবহৃত জিপ, পিকআপ, বাসসহ বিভিন্ন সরকারি যানবাহনের ওপর সম্ভাব্য হামলা বা নাশকতার আশঙ্কা থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটকে সরকারি যানবাহনের নিরাপত্তা জোরদার করা, থানা, পুলিশ লাইন ও অফিস প্রাঙ্গণে নিয়মিত টহল বাড়ানো, সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু শনাক্ত করতে নজরদারি বৃদ্ধি করা, মহানগর, রেঞ্জ ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলাসহ বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর এই নির্দেশনাকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং কোনো ধরনের শিথিলতা না দেখানোর নির্দেশ দিয়েছে।



সোনারগাঁও দর্পণ :

লাইসেন্স না থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ ও আবাসিক চুলায় চিকিৎসা দেয়া, অফিস কক্ষে বিছানা রাখাসহ বিভিন্ন অপরাধে সোনারগাঁওয়ের দুটি ক্লিনিককে মোট দুই লাখ সত্তুর হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় থাকা এ হাসপাতাল দুটিকে জড়িমানা করেন সোনারগাঁও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি কাঁচপুর সার্কেল) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইরুজ তাসনিম।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইরুজ তাসনিম জানান, মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২-এর সংশ্লিষ্ট ধারা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী রয়েল স্পেশালিস্ট হাসপাতালকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মেডি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানের সময় জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।

সূত্র জানায়, হাসপাতাল দুটির পরিচালনার লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলেও তা নবায়ন না করা, মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং প্যাথলজি ল্যাবে প্রয়োজনীয় মানদণ্ড অনুসরণ না করা, অফিস কক্ষে বেড থাকাসহ নানা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় এ সকল দণ্ড দেওয়া হয়।



সোনারগাঁও দর্পণ :

সোনারগাঁওয়ে মালবাহী বেপরোয়া গতির ট্রাকের ধাক্কায় একটি যাত্রীবাহী সিএনজি অটোরিকশা দুমড়ে-মুচড়ে মায়া আলম (৪০) নামে এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। একই দূর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়েছেন আরও ৪ জন। নিহত মায়া আলম পেশায় রাজমিস্ত্রী ছিলেন। তিনি ভোলা জেলার বাসিন্দা এবং মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে। পরিবার নিয়ে সোনাখালী বারাকপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনাখালী নামক স্থানে ঢাকাগামী লেনে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন স্থানীয় সোনাখালী ও বাবরকপুর এলাকার আলিনুর (২৫), সুরুজ মিয়া (৩০), শহিদ (২৮) এবং টিকা খান (৩৫)। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে সোনাখালী এলাকায় মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে একটি অটোরিকশা যাত্রী তুলছিল। এ সময় ঢাকামুখী একটি দ্রুতগামী মালবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ সময় মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পথচারী মায়া আলম ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলেই মারা যান।

পরে, কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনার পর দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও অটোরিকশাটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। 

দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যানবাহন চলাচল কিছুটা ধীরগতিতে চলাচল করলেও পরবর্তীতে স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরসহ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে। 




সোনারগাঁও দর্পণ :

লেখাপড়ায় সোনারগাঁওয়ের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খালেক আঞ্জুমান কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শতভাগ শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। চলতি বছরের গত ১৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা এ ফলাফল অর্জন করে।

খালেক আঞ্জুমান কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক কামাল মোল্লা জানান, স্কুলটির পঞ্চম শ্রেণির মোট ছয় জন শিক্ষার্থী ১৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ১৮ এপ্রিল সে পরীক্ষা শেষ হয়। গত ১২ জুলাই ঘোষিত বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী আমাদের স্কুল থেকে অংশ নেওয়া ছয়জন শিক্ষার্থীই কৃতকার্য হয়। এরমধ্যে চার জন ট্যালেন্টপুলে আর বাকি দুইজন সাধারণ ক্যাটাগরিতে উত্তীর্ণ হয়।

টেলেন্টপুলে যারা বৃত্তি পেয়েছে তারা হলো- নুসরাত জাহান, তাহসিন রহমান, কাসিফ কবির এবং মোহায়মিন আল হাসান। অপরদিকে, সাধারণ বৃত্তি প্রাপ্তরা হলো- সাজিদ রহমান এবং আহনাফ আবরার।

তিনি জানান, শুধু এ বছরের বৃত্তি পরীক্ষায়ই নয়, স্কুলটি প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে অদ্যবদি ফলাফল ভালো করছে। আশাকরি, সামনের দিনগুলো এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।


সোনারগাঁও দর্পণ : 

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিবাদমান দুই গ্রুপের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকটি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের পর সে সকল বাড়ি-ঘর থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং মোবাইল ফোনসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। 

বৃহস্পতিবার ঘটানো একটি ঘটনার সূত্র ধরে শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে উপজেলা পিরোজপুর ইউনিয়নের পাঁচানী এলাকায় বিবাদমান হামিদ গ্রুপের সাথে ছোট কোরবানপুর গ্রামের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী রাসেল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও লুটপাটের এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।  

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা পিরোজপুর ইউনিয়নের বিবাদমান ছোট কুরবানপুর গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী রাসেল গ্রুপের সাথে পাঁচআনী এলাকার হামিদ গ্রুপের প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। 

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির মধ্যে ইউনিয়নের খাসেরগাঁও এলাকায় সাবেক মেম্বার মনির হোসেনের ভাতিজার ছেলে ও রাসেল গ্রুপের সদস্য সোহাগ নামে একজনকে কুপিয়ে আহত করে হামিদ গ্রুপের লোকজন। এরই জের ধরে শুক্রবার ভোরে রাসেলের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল পাঁচানী এলাকার বিভিন্ন বাড়ি-ঘরে হামলা চালায়। 


হামলাকারীরা পাঁচআনী গ্রামের এনামুল হকের বাড়িতে হামলা ভাঙচুর চালিয়ে দুটি গরু, নগদ আড়াই লাখ টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন, প্রায় দুই ভরি স্বর্ণ ও ১৫ ভরি রুপা লুট করে নিয়ে যায়। 

এছাড়া, হাবিবুল্লাহ ওরফে হাবু মিয়ার বাড়ি থেকে মসজিদের ১৭ হাজার টাকা, ব্যক্তিগত সাত হাজার টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায় রাসেল গ্রুপের লোকজন। এছাড়া স্থানীয় আমান উল্লাহর বাড়িতে ভাংচুর চালায় এবং মনি ও দিদারের বাড়ি থেকে দুটি গরু নিয়ে যায় এবং বাড়ির সামনে থাকা খড়ের পালায় আগুন দেয়।

এতেও ক্ষ্যান্ত হয়নি রাসেল গ্রুপ। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘরের টিনের বেড়া কেটে ঘরে থাকা আসবাবপত্র ব্যাপক ভাংচুর করে। 

সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। উভয় পক্ষের কেউ এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সোনারগাঁও দর্পণ :

সনাতনধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রার্থনাস্থল শিবমন্দিরে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মোগরাপাড়া ইউনিয়নের মোগরাপাড়া বাজারের পাশে অবস্থিত শ্রী শ্রী গৌড় নিতাই আখড়ার শিবমন্দিরে বুধবার দিবাগত মধ্যরাতের পর কোন এক সময় চুরির ঘটনাটি ঘটে। 

মন্দির সংশ্লিষ্টদের দাবি, বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিট থেকে তিনটার মধ্যে  লোডশেডিং চলাকালীন সময় চুরির ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। সকালে মন্দিরের পুরোহিত এসে চুরি হয়েছে বুঝতে পেরে সংশ্লিষ্টদের জানায়। চোর মন্দিরের তালা ভেঙ্গে মন্দিরে থাকা ঘন্টা, শঙ্খ, রুদ্রাক্ষমালা ২টা, স্বর্ণের চাঁদ ১টা সিসি ক্যামেরাসহ পুজোর বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে যায়। তবে চোর একটি চাবি ছড়া রেখে গেছে বলে জানান মন্দিরের সদস্যরা।

খবর পেয়ে মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ জেলা সনাতনধর্মাবলম্বী সংগঠনের নেতা এবং সোনারগাঁও থানা পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাদেরকে নানা বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।

তবে, বাহ্যিক দৃষ্টিতে ঘটনাটি চুরি মনে হলেও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং মন্দির সংশ্লিষ্টদের দাবি,  ঘটনাটি দুর্বৃত্তদের বড় কোন অপরাধের আগাম বার্তা হতে পারে। জানান, অনেক বছর আগে এই মন্দিরটিতে দুর্বৃত্তরা দুর্গাপুজোতে আগুন দেয়। এরপর থেকে মন্দিরের সভাপতি শ্রী লোকনাথ দত্ত দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে অনাকাঙ্খিত আর কোন ঘটনা ঘটেনি। 

গত ২১ জুন সোনারগাঁও উপজেলা পুজা উদযাপন কমিটি ও শ্রী শ্রী গৌড় নিতাই আখড়ার সভাপতি লোকনাথ দত্ত পরলোক গমনের তিন দিনের মধ্যে এ ঘটনাটিকে সহজভাবে নিচ্ছেন না তারা। বলছেন তারা আতঙ্কিত। হয়তো এই চুরির মাধ্যমে দুর্বৃত্তরা লোকনাথ দত্তের অনুপস্থিতিতে মন্দির কমিটির অবস্থান নিশ্চিত হয়ে বড় কোন অপরাধ সংগঠনের প্রস্তুতির আগাম বার্তা দিচ্ছে। তাই অনাকাঙ্ক্ষিত কোন ঘটনার আগেই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান মন্দির কমিটির সদস্যরা।




সোনারগাঁও দর্পণ :

সোনারগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী ও একমাত্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় যেন দুর্নীতির আঁতুর ঘরে পরিণত হয়েছে। গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর “সোনারগাঁও দর্পণ” এর অনলাইন পোর্টাল এবং ফেসবুক পেজে ‘শিক্ষা মানোন্নয়ন নয়, নিজের উন্নয়নে ব্যস্ত প্রধান শিক্ষক’ শিরোনামে ভার্চূয়ালসহ প্রতিবেদন প্রকাশ ও প্রচার করা হয়।

প্রতিবেদনটি প্রচার ও প্রকাশের পর কিছুদিন দুর্নীতির সাথে সংশ্লিষ্টরা দুর্নীতি থেকে বিরত থাকলেও আবারও পূর্বের চেয়ে অধিক হারে দুর্নীতি গ্রস্থ হয়ে পরেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করে।

নাম প্রকাশে একাধিক অভিভাবক জানায়, সরকারি হিসেবে প্রতি মাসে বেতন বাবদ ১২টা সরকারি ফি নির্ধারণ থাকলেও প্রতি তিন মাস অন্তর শিক্ষার্থী প্রতি আদায় করা হচ্ছে ৭৫০ টাকা। এছাড়াও বছরের বিভিন্ন সময় অভিভাবকদের নানা খাত দেখিয়ে আদায় করা হয় অতিরিক্ত অর্থ। 

অভিভাবকরা জানান, ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর বিসিএস শিক্ষা প্রশাসনের মো: শাহ আলম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে নিজেকে সর্বেসর্বা'র আসনে বসিয়ে সরকারি নিয়ম- নীতির তোয়াক্কা না করে এ সকল অনৈতিক কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছেন। ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে ১৭শ শিক্ষার্থীর কাছ থেকেই আদায় করছেন এ বাড়তি ফি। 

যদিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক বাড়তি টাকা আদায়ের কারণ হিসেবে শিক্ষক কম থাকার কথা জানিয়ে বেশি টাকা নেওয়ার কথা স্বীকারও করেছেন। তবে অভিভাবকদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটিতে ১৭শ শিক্ষার্থী থাকলেও প্রধান শিক্ষক মাত্র ১৩/১৪ জন অভিভাবকের সাথে কথা বলে তাদের স্বাক্ষর নিয়ে খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ এবং তাদের খরচের জন্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয় জানান। পরবর্তীতে উপস্থিত অভিভাবকদের মধ্যে মাত্র ৪জন অভিভাবকের সম্মতিসূচক স্বাক্ষর নিয়ে পুরোপুরি অনৈতিকভাবে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুরো সতেরশ অভিভাবকের ঘাড়ে চাঁপিয়ে দেন। 

অভিযোগ রয়েছে, খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যারা নিয়োগ পেয়েছেন তাদের মধ্যে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিয়োগ হয়েছে বেশিরভাগ শিক্ষকের। যাদের নেওয়া হয়েছে তাদের কোনো ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটিতে চাকুরি করেন এমন শিক্ষকদের স্ত্রী, মেয়ে, ছেলের বউসহ নিকট আত্মীয়দের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, টিফিন বাবদ প্রতি মাসে ১০০ টাকা নেওয়া হলেও প্রতিদিন টিফিন সরবরাহ করা হয় না। আর টিফিন বাবদ যে সকল খাবার পরিবেশন করা হয় তা খুবই নিন্ম মানের ও অস্বাস্থ্যকর। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী জানায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির দফতরি কাম অফিস সহায়ক জামান মিয়া প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষকের সহায়তায় কক্ষ দখল করে টিফিন বিক্রির নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। যেখানে শিক্ষার্থীদের কাছে অস্বাস্থ্যকর তেলে ভাজা জাতীয় খাবারের পাশাপাশি নিন্মমানের বেকারি পণ্য বিক্রি করেন। এমনকি শিক্ষার্থীদের যে টিফিন দেওয়া হয়, সে টিফিনও জামানের কাছ থেকে ক্রয় করা হয়। যে লাভ হয় সে লাভের একটা অংশ দেওয়া স্কুলের দুর্নীতির সহায়ক প্রধান শিক্ষক, সহকারি শিক্ষক সুধাংসু সিন্ডিকেটকে। জামানের ব্যবসা চালানোর ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিলও দেওয়া হয় প্রতিষ্ঠান থেকে।

এছাড়াও কম্পিউটার ল্যাব ফি বাবদ শিক্ষার্থী প্রতি ১৫০ টাকা আদায় করা হলেও নিয়মিত কম্পিউটার ক্লাস করানো হয়না। অপরদিকে, ম্যাগাজিন ফি, উন্নয়ন ফিসহ বিভিন্ন খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন অভিভাবকরা।

তবে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন শিক্ষকদের বেতন পরিশোধের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় কতটা বৈধ, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা। তাদের দাবি, স্থানীয়ভাবে যাদের এ সকল বিষয় তদারকি করার কথা তারা অজ্ঞাত কারণে সঠিক তদন্ত থেকে পিছিয়ে থাকেন। সম্ভবত সর্ষের মধ্যেই ভূত লুকিয়ে আছে। তাই তারা বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম বলেন, “শিক্ষক সংকটের কারণে বেশ কয়েকজন খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিতে হয়েছে। আমি আসার পরও তিন জনকে নিয়োগ দিয়েছি। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয় সে টাকা খন্ডকালীন শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হয় বলে দাবি করেন। 

তিনি বলেন, যদি অভিভাবকরা মনে করেন খন্ডকালীন শিক্ষক প্রয়োজন নাই তাহলে খন্ডকালীন শিক্ষকদের যে একশত টাকা নেওয়া হয় সেই টাকা নেওয়া হবেনা। আর এ স্কুলে ঠিক মতো পাঠ দান করাতে ৪৫ জন শিক্ষক প্রয়োজন, যেখানে আছে মাত্র ৯ জন। সে ক্ষেত্রে স্কুলের লেখাপড়া না হলে আমার কোন দায় থাকবেনা।

তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দাবি, খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ সরকারি বিধি মোতাবেক অবৈধ। প্রধান শিক্ষক এমনটা করতে পারেন না। যদি করে থাকেন, তাহলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 


MKRdezign

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget