সহোদরের আধিপত্য দ্বন্দ্ব, মোড় নিচ্ছে রাজনৈতিতে? সোনারগাঁওয়ে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর; আহত ১০
সোনারগাঁও দর্পণ :
আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে আপন দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব কি রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে রূপ নিচ্ছে? বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৬নং ওয়ার্ড কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনার পর এমন প্রশ্ন ওঠে স্থানীয়দের মধ্যে।
হামলার ঘটনায় ৬নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি বাবুল বেপারীসহ উভয় পক্ষের ১০জন আহত হয়েছে। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় দু’পক্ষের অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
জানাগেছে, সহোদর সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফের সাথে পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে বুধবার দুপুরে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে নুরুজ্জামান, সবুর খাঁন, আব্দুল লতিফ, মনির হোসেন, ডালিম মিয়া ও ইমজামামসহ ১০-১৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোটা, রামদা, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড নিয়ে আষাঢ়িয়ার চর বাস স্ট্যান্ডে পিরোজপুর ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে হামলা করে। হামলায় কার্যালয়ের দরজা, জানালা, চেয়ার, টেবিল ভাংচুর করা হয়।
এসময় সোনারগাঁ থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ, বাবুল বেপারীসহ কয়েকজন হামলাকারীদের বাঁধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংর্ষষ বাঁধে। জলিল গ্রুপের হামলায় আব্দুর রউফ গ্রুপের পিরোজপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি বাবুল বেপারী, পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সদস্য মফিজুল ইসলাম মফিজ, আবু আক্কাস, ইয়ানবি, রিফাত ও রাফিদ আহত হয়।
অপরদিকে, আব্দুল জলিল গ্রুপের আব্দুল জলিল, সবুর খাঁন, ডালিম আহত হয়। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বাবুল বেপারী, আবু বকর সিদ্দিকের অবস্থা আশংঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে পাঠানো হয়েছে। সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ এর দাবি, ঈদ উল ফিতরের দিন মাদক মুক্ত সমাজ গড়ার আহবান জানিয়ে তিনি বক্তব্য দেওয়ার পর থেকে আব্দুল জলিল তার ওপর ক্ষিপ্ত হয় এআং বিভিন্ন সময়ে তাকে হুমকি দিয়ে আসছিল। আজ বিএনপির কার্যালয়ে বসে কথা বলার এক পর্যায়ে অতর্কিতভাবে জলিলের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। এসময় তার দুই ছেলেসহ ৮নেতাকর্মীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে এবং বিএনপি কার্যালয়ের দরজা, জানালা, চেয়ার টেবিল ভাংচুর করে।
অভিযুক্ত পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের দাবি, গত বছরে আব্দুর রউফ তাদের গ্রামে নিরীহ মানুষের বাড়িতে আগুন দিয়েছিল। ওই মামলায় তাকেও আসামী করা হয়েছিল। পুলিশের তদন্তে জলিলসহ তার অনুসারী ৫ জনকে চার্জশীট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই মামলায় আব্দুর রউফ আদালতে হাজির দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গ্রামে মহড়া দেয়। পরে বিষয়টি জানতে চাওয়ায় তারা বিএনপির কার্যালয়ে তাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে আটকে রেখে মারধর করে। পরে তার নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে দরজা ভেঙ্গে তাকে উদ্ধার করে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটু বলেন, ঘটনাটি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। এর আগেও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তিনি দাবি করেন, বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে একটি তৃতীয় পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটাচ্ছে। বিষয়টি দলীয় ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগে ওই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, হামলা ও সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের আহত রয়েছে। তবে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। তবে চিকিৎসা শেষে অভিযোগ দেবে বলে শুনেছি।










