সোনারগাঁও দর্পণ :৫ আগস্টের আগে এবং পরে দেশে যে সকল অপকর্ম হয়েছে এবং হচ্ছে তার সিংহভাগই রাজনীতিক আর প্রশাসনের সমন্বয়নে সংগঠিত হয়েছে এবং হচ্ছে। ঠিক একইভাবে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে যে সকল অবৈধ চুনা কারখানা রয়েছে সেগুলোও রাজনৈতিক ব্যক্তি, স্থানীয় প্রশাসন, তিতাসের কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা -কর্মচারীদের সিন্ডিকেট বা যোগসাজসে হচ্ছে। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমের কল্যাণে আমরা জানতে পেরেছি।
এছাড়াও সম্প্রতি এক সভায় নারায়ণগঞ্জ -৩ (সোনারগাঁও -সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সাংসদ আজহারুল ইসলাম মান্নান নিজেই তা উপস্থিত সকলের সামনেই জানিয়েছিলেন। তারপরও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তরফ থেকে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছনা সোনারগাঁওয়ে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা প্রায় ৫৬টি চুনা কারখানার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে। তাই আর রাজনীতিক ও প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে না থেকে যে সকল এলাকায় অবৈধ চুনা কারখানা গড়ে উঠেছে, সে সকল এলাকার স্থানীয়দের ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাড়ানোর আহবান জানিয়েছেন "পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন" আয়োজিত সোনারগাঁওয়ে থাকা অবৈধ চুনা কারখানা বন্ধের দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার উদ্ববগঞ্জ এলাকায় "সোনারগাঁও প্রেসক্লাব" এর সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোকাররম মামুনের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা ছিলেন, সূবর্ণগ্রাম সংস্কৃতি অঙ্গনের সভাপতি কবি শাহেদ কায়েস।
সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, অলাভজনক পরিবেশবাদী সংগঠন "পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন" এর সভাপতি কবি রহমান মুজিবের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সোনারগাঁও প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক রবিউল হুসাইন, সুজন সোনারগাঁও শাখার সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, উদীচি সোনারগাঁও শাখার সভাপতি শংকর প্রকাশ, সংগঠনের সহ - সভাপতি মোয়াজ্জেনুল হক, যুগ্ম সম্পাদক মোফাখখার সাগর, কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য রোকেয়া আক্তার, শিপন চৌধুরী প্রমূখ।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাশেদ এহসান, রমিম, সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম খোকন, ইমরান হোসেন, ডালিম হোসেন, বিরুধ আলীসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইতিহাসে দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক, প্রাকৃতিক ও সামাজিকভাবে শান্তিপূর্ণ জনপদ হিসেবে পরিচিত সোনারগাঁও জনপদটিতে বর্তমানে ৫৬টির মতো অবৈধ চুনা কারখানা গড়ে উঠেছে। ফলে, এ অঞ্চলের চিরচেনা সেই পরিচিত পরিবেশ অবৈধ চুনা কারখানার বিষাক্ত কার্বনে আজ অনেকটাই বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। উপজেলার যে সকল এলাকায় অবৈধ চুনা কারখানাগুলো রয়েছে , সে সকল এলাকার শিশু, বৃদ্ধসহ নানা বয়সের মানুষ শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়াও স্থানীয় প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর ব্যাপক বিরূপ প্রভাব ইতিমধ্যে পরতে শুরু করেছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, সোনারগাঁওয়ে গড়ে ওঠা এ সকল কারখানাগুলোর পিছনে মদদদাতা হিসাবে কাজ করছে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, প্রশাসন, তিতাসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা। এমনকি এই অপকর্মের সাথে কিছু নামধারী বিশেষ পেশার ব্যক্তি জড়িয়ে পরারও অভিযোগ রয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা তিতাস কর্তৃপক্ষ, শেল্টারদাতা রাজনীতিকসহ পরিবেশ নষ্টকারী অবৈধ চুনা কারখানার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ঐক্যবদ্ধ সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানান।