Halloween Costume ideas 2015

সোনারগাঁও দর্পণ

সর্বশেষ পোস্ট
অপরাধ অর্থ ও বাণিজ্য আওয়ামী লীগ আড়াইহাজার আদালত আন্তর্জাতিক উত্তরা পূর্ব থানা কাঁচপুর কুমিল্লা খেলাধুলা গজারিয়া গণমাধ্যম গাজীপুর চট্টগ্রাম জাতীয় জামপুর জামায়াত ঢাকা তথ্যপ্রযুক্তি থানা প্রশাসন দাউদকান্দি ধর্ম নরসিংদী নারায়ণগঞ্জ নোয়াখালী নোয়াগাও পর্যটন ও পরিবেশ পিরোজপুর পৌরসভা প্রশাসন ফতুল্লা বন্দর বরগুনা বারদী বিএনপি বিনোদন বৈদ্যের বাজার ভারত ভুলতা মুন্সিগঞ্জ মোগরাপাড়া রাজনীতি রাজনীতি. রাজনীতি. বিএনপি রাজনীতি.মোগরাপাড়া রাজশাহী রূপগঞ্জ র‌্যাব র‌্যাব-11 শম্ভুপুরা শিক্ষা শিক্ষা ও সংস্কৃতি শিবির সন্মান্দি সংস্কৃতি সাদীপুর সাভার সারাদেশ সিদ্ধিরগঞ্জ সিভিল প্রশাসন সিলেট সেনা সোনারগাঁও স্বাস্থ্য কথা হাইওয়ে পুলিশ


সোনারগাঁও দর্পণ :

২০২১ সালের ৩ এপ্রিল, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে নারী সংক্রান্ত এক অনাকাঙ্খিত ঘটনার ৫ বছর পর নিজের বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হক। শনিবার (২০ জুন) নিজের ভ্যারিফাইড ফেসবুক পেজে সকাল ১০টার দিকে ২ হাজার ৩৬৫ শব্দের এক স্ট্যাটাসে তিনি এ বক্তব্য তুলে ধরেন। 

‘৫০১ ফ্যাসিবাদী হাসিনার ব্যর্থ প্রজেক্ট’ শিরোনামে ২ হাজার ৩৬৫ শব্দের বক্তব্যে তিনি শুরুতে ২৯৫ শব্দে ভূমিকায় সংক্ষিপ্তভাবে পুরো ঘটনাটি বর্ণনার চেষ্টা করেছেন। এরপর মোট ১২টি উপ-শিরোনামে তিনি ঘটনা সম্পৃক্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দেশের সাংবিধানিক, ইসলামী শরীয়াহসহ বিভিন্ন দিক তুলে ধরে যে নারীকে নিয়ে ওই কাণ্ড হয়েছিল ওই নারী তার স্ত্রী প্রমাণে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন।

 “সোনারগাঁও দর্পণ” এর পাঠকদের জন্য মামুনুল হকের ফেসবুকে দেওয়া তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো।


 ৫০১ ফ্যাসিবাদী হাসিনার ব্যর্থ প্রজেক্ট 


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

৩রা এপ্রিল ২০২১। রাষ্ট্রীয় মবসন্ত্রাসের এক ঘৃণ্য কালো দিবস। সেদিন আমি আমার স্ত্রী জান্নাত আরা (ঝর্ণা)কে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নং কক্ষে অবস্থান করছিলাম। সেখানে পুলিশের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসী, সাংবাদিক লীগ ও ঘাদনিকের প্রায় শ খানেক সদস্য উপস্থিত হয়। রিসোর্টের রিসিপশন ডেস্ক থেকে ফোন করে আমাকে জানানো হয়, পুরো রিসোর্ট পুলিশ ঘেরাও করে ফেলেছে। আমি আমার কক্ষের দরজা খুলতেই তারা সবাই জোরপূর্বক আমার রুমে প্রবেশ করে। সময় টিভিসহ বেশ কয়েকটি চ্যানেলের সাংবাদিক এবং উপস্থিত প্রায় সকলেই তাদের ডিভাইসের মাধ্যমে একযোগে লাইভ প্রচার করতে থাকে।

তারা নানা ভাবে আমাদেরকে হেনস্থা করে। আমার উপর চড়াও হয়। আমার স্ত্রীকেও টেনে ধরে হ্যাচারানোর উপক্রম করে। তাদের হিংস্রতা থেকে বাঁচানোর জন্য

আমি আমার স্ত্রীকে ওয়াশরুমের দরজা খুলে সেখানে আটকে দেই। কিছুক্ষণের মধ্যে লেডি পুলিশের একটি টিম এসে উপস্থিত হয় এবং ওয়াশরুমে ঢুকে তারাও সেখান থেকে লাইভ সম্প্রচার করতে থাকে।

উপর্যুপরি তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আমি এবং আমার স্ত্রী আমরা উভয়েই স্পষ্ট ভাষায় আমাদের বৈবাহিক সম্পর্ক এবং আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সেখানে অবস্থান করার বিষয়টি ব্যক্ত করি এবং সেটি সকল সংবাদে একযোগে প্রচার হতে থাকে। 

শুরুতেই পুলিশ কর্মকর্তা আমার হাত থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে এডিশনাল এসপি আসার পর তিনি আমাদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য ফোনে আমার পরিচিতজনদের সাথে কথা বলে আশ্বস্ত হয়ে আমাদেরকে নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসতে চান। কিন্তু ততক্ষণে সেখানে উপস্থিত হন গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইর একাধিক কর্মকর্তা। তারা আমাদেরকে থানায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। আমরা তাদের সাথে রুম থেকে বের হয়ে লবিতে নেমে দেখি হুলস্থুল কান্ড। হাজার হাজার প্রতিবাদী মানুষ সেখানে ঢুকে পড়েছে। উপস্থিত পুলিশগুলো প্রাণ ভয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে তাদেরকে রক্ষা করার আবদার জানাতে থাকে। আমি পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে আমার মোবাইল ফেরত নিয়ে লাইভে কিছু বক্তব্য দেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু দেখি প্রযুক্তির সাহায্যে আমার ফেসবুক আইডির লাইভ অপশন বন্ধ করে রাখা হয়েছে । তখন আমি বিক্ষুব্ধ জনতার সামনে গিয়ে তাদেরকে নিবৃত্ত করি এবং পুলিশদেরকে রক্ষা করার ব্যবস্থা করি। 

জান্নাত আরার সাথে আমার বিয়ের প্রসঙ্গ:

জান্নাত আরা ইতিপূর্বে আমার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হাফেজ শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ছিল এবং আঃরহমান জামি ও ওবায়দুর রহমান তামিম নামে তাদের দুজন সন্তান রয়েছে। বনিবনা না হওয়ায় তারা উভয়ে স্বেচ্ছায় বিচ্ছেদ ঘটায়। একটা সময় জান্নাত আরা স্বপ্রণোদিত হয়ে ফোনে আমার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং আমার সহযোগিতা কামনা করে। আমি তাকে আমার পরিবারের কথা বলে এই মর্মে প্রস্তাব দেই যে, সমতার ভিত্তিতে স্ত্রীদের যেই অধিকার দেয়ার বাধ্যবাধকতা ইসলামে রয়েছে, আমি সেটা দিতে পারব না। এতে যদি সে সম্মত থাকে তাহলে আমি তাকে আমার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করব। সে স্বেচ্ছায় প্রস্তাবে সম্মতি জানালে আমি তার কাছ থেকে সুস্পষ্ট শব্দে বিবাহের ইজিন গ্রহণ করি এবং শরীয়তের বিধান মোতাবেক আমার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করি। উল্লেখ্য ফকীহগণ কুরআন সুন্নাহর দলিলের আলোকে সাব্যস্ত  করেছেন যে, স্ত্রীর যে অধিকার স্বামীর উপর ওয়াজিব, তা স্ত্রী স্বেচ্ছায় ত্যাগ করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে। 

বিবাহের পর আমি তাকে ঢাকা মোহাম্মদপুরস্থ কুরআন শিক্ষার কেন্দ্র নূরানী কোর্সে ভর্তি করিয়ে দেই এবং সে কোর্স সুসম্পন্ন করে। এভাবে কিছুদিন থাকার পর নিজ আগ্রহে সেলাই প্রশিক্ষণসহ মেয়েলি কিছু কার্যক্রমের প্রশিক্ষণের একটি প্রতিষ্ঠানে সে কাজ শিখতে থাকে। 

প্রথমদিকে ঢাকায় তার এক বোনের বাসায় অবস্থান করত এরপর স্বেচ্ছায় অন্য বাসায় সাবলেট হিসাবে বসবাস করা শুরু করে । আমি প্রয়োজন মত তার সাথে সাক্ষাৎ করতাম এবং সময় দিতাম। 

বিবাহ গোপন রাখা প্রসঙ্গ:

এটা সবাই জানি, আমাদের উপমহাদেশে একাধিক বিবাহ একটা জটিল বিষয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে যারাই একাধিক বিবাহ করেন, তারা প্রথম পরিবার থেকে একটা সময় পর্যন্ত লুকিয়ে রাখেন। কারণ, পরিবার কোনভাবেই তা মানতে চায় না। স্বাভাবিকভাবেই আমার সন্তান ও পরিবারে ওই মুহূর্তে আমি অস্থিরতা তৈরি করতে চাইনি। রাষ্ট্রীয় আইনে প্রথম স্ত্রীর অনুমতির বাধ্যবাধকতার জটিলতায় কাবিন করাটাও সমস্যাপূর্ণ ছিল। আর ইসলামেও কাবিন করা বাধ্যতামূলক নয়। আমার প্রথম বিবাহেও স্ত্রী রাষ্ট্রীয় আইনে অপ্রাপ্তবয়স্কা হওয়ায় কাবিন করিনি। 

তবে একাধিক বিবাহের বিষয়টি ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ জানত। আমিই সতর্কতামূলক জানিয়ে রেখেছিলাম। রয়েল রিসোর্ট থেকে পুলিশ কর্মকর্তা এএসপি মহোদয়  আমার সেই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্য থেকে একাধিক নির্ভরযোগ্য সুপরিচিত ব্যক্তির সাথে আলাপ করে আশ্বস্ত হয়েছিলেন এবং আমার পক্ষে কিছুটা ভূমিকা পালন করেছিলেন। ফলে তাকে হাসিনা সরকারের চরম নিগ্রহনের শিকার হতে হয়েছে। 

আর যারা আমার বিবাহের বিষয়ে নিজেদের অবগত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করেছিলেন, তাদের উপর দিয়েও বয়ে গেছে ভয়াবহ ঝড়। তাদেরকে উপর্যুপরি চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে, তারা যেন আমার বিরুদ্ধে স্টেটমেন্ট দেন।  

আল্লাহ সেই সকল ওলামায়ে কেরামকে যথাযোগ্য বিনিময় দান করুন, তারা কেউ কেউ দেশ ছেড়ে ফেরারী জীবন যাপন করেছেন কিন্তু গোয়েন্দাদের কথায় রাজি হননি। 

রয়েল রিসোর্টে আরেকজনের নাম এন্ট্রি প্রসঙ্গ:

আমার আইডি কার্ডের বিস্তারিত পরিচয়ে স্ত্রীর নাম আছে আমিনা তাইয়েবা। আর জান্নাত আরার আইডি কার্ডে তার নাম হলো শাহিদা ইসলাম এবং স্বামী হিসেবে শহিদুল ইসলামের নাম লেখা। যা তখনো পরিবর্তন করেনি। তাই আমরা দুজন কথা বলেই স্ত্রীর ঘরে আমার প্রথমার নাম বলেছিলাম। 

ফোন কলে প্রথমার কাছে শহিদুল ইসলামের ওয়াইফ বলে পরিচয় দেওয়া প্রসঙ্গ: 

আমার প্রথম স্ত্রীকে বিষয়টি যেভাবে শান্ত মাথায় বললে তার জন্য মেনে নেওয়া সহজ হতো সেটা করতে পারিনি, তাই  আমি তার কাছে জান্নাত আরার সাবেক পরিচয় বলেছি। যেহেতু জান্নাত আরাকে আগে থেকে সে শহিদুল ইসলামের ওয়াইফ হিসেবেই চিনত। 

একজন নাগরিকের প্রাইভেসি নষ্ট ও সুশীল সমাজের দ্বিচারিতা:

আমি কিংবা জান্নাত আরা (ঝর্না) আমরা কি বাংলাদেশের প্রচলিত কোন আইন ভঙ্গ করেছি? কিংবা  আমি অথবা সে আমরা কেউ কি কারো কাছে কোন অভিযোগ দায়ের করেছি? আমরা তো সেখানে স্বেচ্ছায় গিয়েছিলাম। 

তাহলে পুলিশের নেতৃত্বে জোরপূর্বক আমাদের ঘরে ঢোকা কোন আইনে বৈধ হলো? 

রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে একের পর এক আমাদের ব্যক্তিগত কল রেকর্ড ফাঁস করা এবং অনেক ক্ষেত্রে তাতে বিকৃতি করার বৈধতা কোন আইনে আছে? 

আমি রাষ্ট্রীয় কোনো আইন লঙ্ঘন করিনি, শরীয়তের আইনও লংঘন করিনি। 

কিন্তু ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার রাষ্ট্রযন্ত্র প্রকাশ্যে এই অন্যায়গুলো করল। কোন একজন সুশীলও কি এই ব্যাপারে কোন কথা বলল? একটি রাষ্ট্রের এমন নির্লজ্জ ভূমিকায় সরকার বা রাষ্ট্র কিংবা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রশ্ন না করে সবাই আমাকে ঘায়েল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠল! 

ধিক এই রাষ্ট্রযন্ত্রকে!   

ধিক এই সুশীলতাকে!! 

ধিক এই দ্বিচারিতাকে!!! 


এখনো যারা এই নির্মম রাষ্ট্রীয় নির্লজ্জতার সুরে সুর মিলিয়ে কথা বলে হাসিনার নির্লজ্জতাকে বৈধতা দেয়, তাদের নীতি নৈতিকতা কোন লেভেলের? নাকি নীতি নৈতিকতা শুধু লুঙ্গির তলেই থাকে? 


রাষ্ট্র চেয়েছিল করতে আমাকে ধ্বংস, আল্লাহ করেছেন আমাকে রক্ষা:

নারায়ণগঞ্জে রিসোর্টকান্ডের পর পর তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এন এস আই এর তৎকালীন ডিজি মেজর জেনারেল টি এম জোবায়ের আমার সাথে বসেছিল। আমাকে অফার করেছিল, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে। আলহামদুলিল্লাহ! আমার বুঝে এসেছিল যে, আমাকে ট্র্যাপে ফেলে আমার দ্বারা ইসলামের বড় ক্ষতি করতে চায়। আমি তাদের অফার গ্রহন করিনি। আল্লাহ আমাকে হেফাজত করেছেন। 

রয়েল রিসোর্ট থেকে জান্নাত আরাকে মহিলা পুলিশ নিজেদের দায়িত্বে এগিয়ে দিয়ে যায় মাওলানা নোমান কাসেমীর বাসায়। কিন্তু পরে আবার তারাই  জান্নাত আরার বাবাকে ধরে ঢাকায় এনে তাকে দিয়ে জিডি করায় এবং জান্নাত আরাকে আমার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। 

হাফেজ শহিদুল ইসলাম (জান্নাত আরার প্রাক্তন স্বামী)কে তুলে এনে আমার বিরুদ্ধে স্টেটমেন্ট দেওয়ানোর জন্য সবরকম চেষ্টা করে। তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন, কিন্তু তাদের কথায় সম্মত হননি। 

জান্নাত আরাকে ছয় মাস পর্যন্ত তাদের হেফাজতে রেখে এমন এমন ভীতি প্রদর্শন করেছে যাতে একজন নারী তাদের কিছু কথায় সায় না দিয়ে থাকতে পারেনি। এমনকি ডিজিএফআইয়ের তত্ত্বাবধানে তাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং ডিজিএফআইয়ের একজন লেডি কর্মকর্তা কাঠগড়ায় তাকে ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকে। পুরো আদালত ছিল সেদিন ডিজিএফআই এর নিয়ন্ত্রণে।

তার সন্তান আব্দুর রহমানকেও তারা বিভ্রান্ত করে  কিছু বিকৃত বক্তব্য দেওয়ায়। পরবর্তীতে আদালতে সাক্ষী দেওয়ার সময় যখন তারা আবার আব্দুর রহমানকে ধরে আনে, তখন সে প্রায়শ্চিত্ত করে। কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর আগ পর্যন্ত তাদের শিখিয়ে দেওয়া বুলি আওড়ায়। কিন্তু আদালত শুরু হলে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সে অকপটে প্রতিটি সত্য কথা বলে যেতে থাকে। বিচারকসহ সরকারি পিপি এবং পুলিশ স্তম্ভিত হয়ে যায় এবং একে অপরের দিকে চাওয়া-চাওয়ি করতে থাকে আর দাঁত কটমট করতে থাকে। ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট একমাত্র সাক্ষীর এমন সাক্ষের মাধ্যমে তাদের পুরো নাটক মাঠে মারা খায়। 

প্রসঙ্গ মুতা বিয়ে :

ফ্যাসিবাদী হাসিনার লীগ প্রশাসন ও মিডিয়া নানা রকম মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ ছড়ায়। রিমান্ড জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে মিথ্যাচারগুলো অবলীলায় করে যায়। নানা ধরনের আজগুবি কথাবার্তা মিডিয়া লিখতে থাকে। চুক্তিভিত্তিক বিয়ে, সাময়িক বিয়ে এই জাতীয় ডাহা মিথ্যা কথা তারা একের পর এক প্রচার করে যায়। অথচ বাস্তবতা আদৌ এমন ছিল না। 

আমাদের বিয়ে ছিল সম্পূর্ণ শরীয়তসম্মত ইসলামী বিয়ে। সাময়িক অথবা মুতা বিয়ের কনসেপ্ট হাসিনার তৈরি মিথ্যা প্রোপাগান্ডা। 

একজন ডিভোর্সি নারীকে বিয়ে করা কি অপরাধ? এটাকে কোন দেশের পরিভাষায় কটাক্ষ করা যায়? 

জান্নাত আরা (ঝর্না)র বর্তমান অবস্থান:

২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ছয় বছর আমাদের বিবাহ বন্ধন টিকে ছিল। কিন্তু ২০২১ এর ঘটনার পর পরস্পর কিছু মনোমালিন্য সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষিতে 

এক পর্যায়ে আমরা আলোচনার মাধ্যমে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।২০২৫ সালের মার্চ মাসে বিচ্ছেদের আগ পর্যন্ত এমনকি আমার কারাবাসকালীন সময়েও তার ভরণপোষণসহ প্রাপ্য অধিকার আদায় করি। 

চরিত্র হননের ঘৃণ্য প্রয়াস:

রাজনৈতিক কিংবা আদর্শগত মতপার্থক্যের কারণে অনেকেই ফ্যাসিস্ট হাসিনার এই নির্লজ্জ মবসন্ত্রাস ও মিথ্যাচারের ঘটনাকে পুঁজি করে আমাকে ঘায়েল করার অপপ্রয়াস চালায়। তারা মনে করে কটুক্তি বা কটাক্ষ করলেই সত্য ন্যায় ইসলাম ও দেশ জাতির পক্ষে কথা বলতে আমি কুণ্ঠিত হয়ে যাব। 

তাদের মনে রাখা উচিত, কুৎসা রটনা ও ঘায়েল করার ভয়াবহ অনেক পর্ব আমি আল্লাহর রহমতে পেছনে ফেলে এসেছি। 

নারায়ণগঞ্জের আদালতে এমনও দিন গিয়েছে যে, আমার পক্ষে একজন আইনজীবীকে পর্যন্ত উপস্থিত হতে দেওয়া হয়নি। অপরদিকে আওয়ামী লীগের সকল পান্ডা আইনজীবী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ডিজিএফআইয়ের নেতৃত্বে একত্রিত হয়ে আমাকে অশ্লীল গালিগালাজ করেছে, হেনস্থা করেছে। চরম অসহায় অবস্থায় আদালতে ঘন্টার পর ঘন্টা ফেলে রেখেছে। 

আল্লাহর মেহেরবানীতে আমি কখনো ভেঙ্গে পড়িনি। আল্লাহর রহমতের উপর ভরসা রেখেছি। পরবর্তীতে অবশ্য বিএনপি ও জামাতসহ আমাদের আইনজীবীদের বিপুল উপস্থিতিতে আওয়ামী গুন্ডাজীবীগুলো চুপসে গিয়েছিল।

সেই উত্তাল সময়েও গোয়েন্দা বাহিনী চরিত্র হননের ভয় দেখিয়ে আমাকে দিয়ে ইসলামের বিপক্ষে কিংবা আল্লামা বাবুনগরীর বিপক্ষে টু শব্দ উচ্চারণ করাতে পারেনি।

ব্ল্যাকমেইলিং করে কাউকে সত্য উচ্চারণে কুন্ঠিত করে ফেলার নির্মম অনেক ইতিহাস আমাদের জানা আছে।

আর তাই প্রথম দিন থেকেই এ ব্যাপারে আমি সজাগ ছিলাম। আমার একজন ব্যক্তির সম্মান রক্ষা করার চেয়ে

সত্যের সম্মান অনেক ঊর্ধ্বে। কাজেই আমি রাষ্ট্রীয় নির্লজ্জতার কাছে আত্মসমর্পণ করিনি এবং শেষ পর্যন্ত আল্লাহর রহমতে বিজয়ী বেশে বেরিয়ে এসেছি। আলহামদুলিল্লাহ আমার আত্মবিশ্বাসের পারদ অনেক উপরে আছে। এই সকল ছোটলোকদের কুৎসা রটনার পরোয়া করার সময় আমার নেই ইনশাআল্লাহ। 

হাসিনার ভয়াবহ সর্বগ্রাসী ষড়যন্ত্রের সময় আমি পরিণাম নিয়ে কিছুটা আতঙ্কগ্রস্ত ছিলাম। আল্লাহ যখন সেই পরিস্থিতি থেকে আমাকে উত্তরণ করেছেন, এখন শুধু কুৎসা রটনাকারীদের পেছন টেনে ধরার অপকৌশলে ভড়কে যাওয়া কিভাবে সমীচীন হতে পারে? 

আমার নামে পোষা মিডিয়া ও প্রশাসনলীগ আর গোয়েন্দারা মিলে যে সকল কল্পকাহিনী প্রচার করেছে তার যদি আদৌ কোন সত্যতা থাকতো, তাহলে আজও সেই হাফেজ শহিদুল ইসলাম আমার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে ভূমিকা পালন করতেন না। তাদের কথায় যদি সত্যের বিন্দুমাত্র লেশ থাকতো, তাহলে জান্নাত আরার ছেলেরা এখনো আমার সাথে সম্পর্ক বহাল রেখে চলত না।


আমি আমার আত্মপক্ষ সমর্থনে এই জাতীয় বয়ান আগেও দিয়েছি। মিডিয়াতেও কথা বলেছি। এটাও আমার জানা আছে যে, সবকিছু বলার পরেও যারা অন্যের ছিদ্রান্বেষণ করতে পছন্দ করে, তারা কখনোই নিবৃত্ত হবে না। 

আমি তো নগণ্য তুচ্ছ মানুষ! মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুন্যাত্মা স্ত্রী হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার চারিত্রে অপবাদ রটনাকারীরা কি আজও নিশ্চুপ হয়ে গিয়েছে? এমনকি স্বয়ং মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনের আয়াত নাজিল করে হযরত আয়েশার পক্ষে স্পষ্ট সাফাই গাওয়ার পরও একদল মুসলিম নামধারী লোক এবং সংখ্যায় তারা কোটি কোটি আজও কি এই পৃথিবীতে বিদ্যমান নেই? যাদের ঘৃণ্য শপথ হল তারা মদিনা শরীফ দখল করতে পারলে জান্নাতুল বাকি কবরস্তান থেকে হযরত আয়েশার মরদেহ তুলে তার উপর তাদের আরোপিত কুৎসামতে শাস্তি প্রয়োগ করবে! নাউজুবিল্লাহ! 

এই ঘৃণ্য মানসিকতার লোকদের উপর আল্লাহর লানত!!


আল্লাহর নবীর স্ত্রী হয়েও কুৎসা রটনাকারীদের হাত থেকে নিস্তার পাননি। স্বয়ং মহান আল্লাহর কুরআন নাজিলের পরেও একশ্রেণীর মানুষের জবান বন্ধ হয়নি। এতে হযরত আয়েশার কি ক্ষতি হয়েছে? বরং সেই কপালপোড়া কুৎসা রটনাকারীদেরই ইহকাল পরকাল বরবাদ হয়েছে। 

আল্লাহর পানাহ! আমি কস্মিনকালেও হযরত আয়েশার সাথে আমার মত নগণ্যের বিন্দুমাত্র তুলনা করছি না। তবে সেখান থেকে অনুপ্রেরণা লাভ করছি। কুৎসা রটনাকারীদের জবান বন্ধ করার কোন ইচ্ছা বা অভিপ্রায় যেন আমার মধ্যে জন্ম না নেয়। তাদেরকে ভয় পেয়ে আমি যেন সংকুচিত হয়ে না পড়ি। 

বহু বিবাহের কারণে কিংবা অল্প বয়সে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বিয়ের কারণে যে সকল কুলাঙ্গার প্রিয় নবীজির শানে বেয়াদবী করে, আমি লক্ষ্য করেছি সেই নাস্তিক-মুরতাদরা আমার বিষয়েও কটু মন্তব্য করে। এটাকে আমি আমার জন্য পরম সৌভাগ্য হিসেবে বিবেচনা করি।

দ্বিতীয়ত ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার বর্বর  লিগ সন্ত্রাসীরা আমার সম্পর্কে তাদের অন্তর্জ্বালা প্রকাশ করে। এটাকেও আমি অস্বাভাবিক মনে করি না।

তবে এর বাইরে রাজনৈতিক মতভিন্নতার কারণে কিছু মানুষ আমাকে ঘায়েল করতে গিয়ে কুখ্যাত হাসিনার রাষ্ট্রীয় নির্লজ্জ অশ্লীলতাকে বৈধতা দেয়। তাদেরকে শুধু একটি কথাই স্মরণ করিয়ে দেই, 

শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়ার চরিত্র হননের জন্য অসভ্যতার কোন সীমা লঙ্ঘন না করে থেকেছে? কিন্তু বেগম জিয়া কোনদিন তার এই সকল অসভ্যতার বিন্দুমাত্র জবাব দেওয়ার গরজ অনুভব করেননি। মানুষ আজ শেখ হাসিনার সেই অসভ্যতাকে নয় বরং বেগম জিয়ার নীরবতাকেই সম্মান ও স্যালুট জানায়! 

ইসলামপন্থী কিছু ভাই-ব্রাদার আমার সাথে রাজনৈতিক বা দলীয় দ্বিমতের ভিত্তিতে এই ঘৃণ্য দলের সুরে সুর মেলায়। তাদের জন্য আমার করুণা হয়। 

মুবাহালার চ্যালেঞ্জ :

আল্লাহর কুরআনের ভাষায় শেষ সমাধান হিসাবে তাদের প্রতি আমার সর্বশেষ পায়গাম হল- 

تعالوا ندع ابنائنا وابنائكم ونساءنا ونسائكم وانفسنا وانفسكم ثم نبتهل فنجعل لعنه الله على الكاذبين

"আসো আমরা আমাদের সন্তানদেরকে ডেকে আনি। তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে নিয়ে আসো।

আমরা আমাদের স্ত্রীদেরকে ডেকে আনি। 

তোমরা তোমাদের স্ত্রীদেরকে নিয়ে আসো।

আর আমরা নিজেরা আসি। তোমরাও নিজেরা আসো। অতঃপর মুবাহালা করি আর মিথ্যাবাদীদের উপর আল্লাহর লানতের দোয়া করি। 

-- আলে ইমরান ৬১ 

২০২১ সালের ৩ রা এপ্রিলের রয়েল রিসোর্টের ঘটনার পরপর একবার আমি এমন কথা বলেছিলাম। আজ আবার বললাম। পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকে ছোট বড় যে কোনো ব্যক্তি যদি আমার সাথে এমনতর চ্যালেঞ্জ ও মুবাহালা করার সৎ সাহস রাখে আমি তার জন্য প্রস্তুত! 

ভিন্ন মাতালম্বীদের প্রতি আহ্বান : 

প্রত্যেক ব্যক্তির সম্মানীয় ও ভালোবাসার পাত্র রয়েছে। যদি নিজের সম্মানীয়কে আরেকজনের গালাগাল শোনাতে না চান, তাহলে অন্যের প্রিয় ও সম্মানীয়কে

গালাগাল করবেন না। বিনিময়ে আপনার প্রিয় ও সম্মানীয় ব্যক্তিও নিরাপদ থাকতে পারবে না। তার এবং তাদের বিরুদ্ধেও অনুরূপ কুৎসা ও গালিগালাজ হবে। সেজন্য অপরকে দায়ী না করে আয়নায়  নিজের চেহারা দেখুন। 

৫০১ ফ্যাসিস্ট হাসিনার ষড়যন্ত্রের ব্যর্থ প্রজেক্ট :

বিশিষ্ট নারী সাহাবী হযরত আবু বকর সিদ্দিক তনয়া আসমা বিনতে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহার সমালোচনাকারীরা তাকে জাতুন নেতাকাইন (দুই বেল্টওয়ালী) খেতাবে উপহাস করত। আর তিনি নিজে জাতুননেতাকাইন শব্দ নিয়ে গৌরব করতেন। বলতেন আমি আমার কোমর বন্ধন বেল্ট দু টুকরো করে হিজরতের রাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর থলে বেঁধে দিয়েছিলাম। এটাতো কোন নিন্দনীয় কটাক্ষের অভিধা হতে পারে না এটা হল আমার চির গৌরবের সম্মানীয় খেতাব ! 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের পর বলেছিলেন, আগামীকাল আমরা বনু কেনানার উপত্যকায় অবস্থান করবো যেখানে মক্কার সকল দুরাচার পাপিষ্ঠরা আল্লাহর দ্বীন ধ্বংস করার চুক্তি করেছিল! 

ইসলামের এই সকল সুমহান আদর্শের অনুসরণে যে সকল কুলাঙ্গাররা ফ্যাসিস্ট হাসিনার ষড়যন্ত্রমূলক অসভ্যতা নির্লজ্জতা বেহায়াপনা ও রাষ্ট্রীয় মবসন্ত্রাসের পরাজিত ঘৃণ্য প্রজেক্টকে ৫০১ বলে বলে বিকৃত স্বাদ আস্বাদন করে, তাদের প্রতি আমাদের সুস্পষ্ট জবাব হল- ৫০১ আমাদের নয়, বরং ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার নির্লজ্জ দোসরদের পরাজয়ের দলিল। হাসিনার পরাজয়ের কালিমা হিসেবে ৫০১কে আমরা আমাদের বিজয়ের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করলাম।  আমরা এখন থেকে ৫০১কে সেলিব্রেট করব এবং আল্লাহর খাস রহমত প্রাপ্তির আনন্দ উদযাপন করব ইনশাআল্লাহ। 

যেখানে যারা শেখ হাসিনার এই বেহায়াপনার সাথে সুর মেলাবে সেখানে আমরা ৫০১ এর বার্তা পৌঁছে দিব ইনশাআল্লাহ। 

আল্লাহ সকলকে সুমতি দান করুন। আমীন।


সোনারগাঁও দর্পণ :

সোনারগাঁওয়ে মাদকাসক্ত চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ফয়জল হত্যা মামলায় অভিযুক্ত প্রধান আসামী সজিব আহম্মেদ ওরফে সাদ্দাম (৪০) কে গ্রেফতার করেছে সোনারগাঁও থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে কুমিল্লা সদর থানার পাদুয়ার বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার হওয়া সজিব ওরফে সাদ্দাম সোনারগাঁওয়ে উপজেলার বৈদ্দেরবাজার ইউনিয়নের মনারবাগ এলাকার ছগির আহমেদ এর ছেলে এবং একই ইউনিয়নের হাড়িয়া এলাকার এভারগ্রীন মাদকাসক্ত পূণর্বাসন কেন্দ্রের মালিক। 

জানাযায়, গত ৪ জুন সোনারগাঁওয়ের বৈদ্দের বাজারের হাড়িয়া এলাকায় অবস্থিত এভারগ্রীন মাদকাশক্তি পূণর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন কাঁচপুর ইউনিয়নের পশ্চিম বেহাকৈর এলাকার মৃত ফোছন মিয়ার ছেলে ফয়জলকে পিটিয়ে হত্যা করে পূণর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক সজিব, ইসমাঈল মেম্বার এর ছেলে রকি ও তার শালা, উজ্জ্বল, মনির, হালিম। 

নির্যাতনের এক পর্যায় তাকে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফয়জলকে মৃত ঘোষণা করেন। 

এদিকে, ওই ঘটনার পর কেন্দ্রটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সজিবসহ সকলে পালিয়ে যায়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দিবাগত গভীর রাতে সোনারগাঁও থানার এসআই (সাব-ইন্সপেক্টর, নিরস্ত্র) সুরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল কুমিল্লা সদর থানার পাদুয়ার বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। 

ধৃত আসামী  সজিব আহম্মেদ ওরফে সাদ্দামের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।ন ইতোমধ্যে রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান এসআই সুরুজ্জামান।



সোনারগাঁও দর্পণ :

সোনারগাঁওয়ের প্রথম লিফটযুক্ত বহুতল শপিংমল “আল-মদিনা”তে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের পাশাপাশি সোনারগাঁও সরকারি কলেজের রোভার স্কাউট এবং স্বেচ্ছাসেবীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এক ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। অগ্নিকাণ্ডে মার্কেটটিতে থাকা বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মালিকপক্ষ ক্ষতির পরিমান বিষয়ে ধারণা না করতে পারলেও ব্যবসায়ীদের ধারণা ১৫/২০ লাখ টাকার সমপরিমান ক্ষতি হতে পারে।

এদিকে, শপিংমলটিতে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সর্টসার্কিটের কারণে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে।

অপরদিকে, অগ্নিকাণ্ডের সময় শপিংমলটিতে থাকা একটি স্কুলে ছোট-ছোট শতাধিক কোমলমতি শিশুরা অবস্থান করছিল। ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয়দের মতে, আগুনের তীব্রতার যে ত্যাজ ছিল, শুধুমাত্র আল্লাহ সহায় ছিলেন বলে শিশুগুলো প্রাণে বেঁচে গেছে। নিঃসন্দেহে তাদের ভাগ্য ভালো।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সন্দেহের তীর মালিক পক্ষের দিকে। তারা বলছেন, কোন বড় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বেশি ভাড়া পাওয়ার প্রত্যাশায় মার্কেটটির মালিক পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে।

তারা জানান, আল-মদিনা শপিংমল সোনারগাঁওয়ের প্রথম কোন সেন্ট্রাল এসি যুক্ত মার্কেট। মার্কেটটি আধুনিক সুবিধাসম্বলিত হলেও নির্মাণের পর এখানে তেমন কোন ক্রেতা না আসায় ব্যবসায়ীরা প্রচুর ক্ষতিগ্রস্ত। অনেকে তাদের দোকান ছেড়ে অন্য কোন ব্যবসা করছেন। এখনো আমরা যারা আছি তারা অদ্যবধি ক্ষতির সম্মুখিন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ীরা জানান, মাস তিন আগে থেকে মালিক পক্ষ সকল ব্যবসায়ীদের দোকান ছেড়ে দিতে বলছে। কারণ জানতে চাইলে, মালিকপক্ষ মার্কেট সংস্কারের কথা বলেন। মার্কেট সংস্কার করতে দোকান ছাড়তে হবে কেন ? এমন প্রশ্নের উত্তরে বিভিন্ন হুমকী আসে। পরে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, পুরো ভবনটিতে অজ্ঞাত কোন হাসপাতাল হবে। আগামী বছরের প্রথম থেকে তারা তাদের কার্যক্রম শুরু করবে। এরমধ্যে যারা আসবে তাদের মতো করে তাদের ব্যবসার ডেকোরেশনের কাজ করবে বলে জানি। 

তাছাড়া, গত ১৭ জুন বুধবার দোকান ছেড়ে দেওয়ার জন্য মালিক পক্ষ নোটিশ টাঙ্গিয়ে দেওয়ার একদিন পরই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। তাই মালিক পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে আমরা মনে করি। 

তবে মার্কেটে থাকা ব্যবসায়ীদের তিন মান ধরে অন্যত্র চলে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে স্বীকার করে মালিকপক্ষের দাবি, অগ্নিকাণ্ডটিতে তাদের কোন হাত নেই। নিজ প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়া আত্মহত্যার শামিল। এটা তারা কেন করবেন। তাদেরও ধারণা, বিদ্যুতের সর্টসার্কিট থেকেই এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।



সোনারগাঁও দর্পণ :

নাতনিকে ধর্ষকের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে ধর্ষকের ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত যখম হয়েছেন বৃদ্ধা নানি রেজিয়া বেগম (৬০)। বুধবার (১৭ জুন) ঘটনাটি ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর গ্রামে। এই ঘটনায় আহত  রেজিয়া বেগম বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযুক্ত জামান (৪৫) একই গ্রামের সোবহান মিয়ার ছেলে। স্থানীয়ভাবে জামান একজন অন্যতম শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবেই পরিচিত।

থানায় করা অভিযোগে জানা যায়, লম্পট জামান দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও বিক্রির সাথে জড়িত। একই এলাকায় হওয়ায় জামান দীর্ঘ দিন ধরেই রেজিয়া বেগমের নাতনী জান্নাতুল ফেরদৌসকে ইভটিজিং এর পাশাপাশি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এই বিষয়ে জান্নাতুলের স্বামী মোঃ রাহাত (২৫) প্রতিবাদ করলে জামান তাকেও মারধর ও গালিগালাজ করে।

তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জান্নাতুল নিজ বাড়িতে একা থাকার সুযোগে জামান জান্নাতের ঘরে প্রবেশ করে। এরপর সে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক জান্নাতুলকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করে। এমতাবস্থায় জান্নাতের আর্তচিৎকারে নানি রেজিয়া বেগম দ্রুত ঘরের সামনে গিয়ে দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরবর্তীতে তিনি ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে নাতনীকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। 

এ সময় জামান ক্ষিপ্ত হয়ে তার কোমরে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে রেজিয়া বেগমের হাতে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। একপর্যায় নাতি ও নাতিনকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করে পালিয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

সোনারগাঁও থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত জামানকে গ্রেফতারে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 


সোনারগাঁও দর্পণ :

স্কুল ফাঁকি দিয়ে সহপাঠিরা রাজধানী থেকে সোনারগাঁওয়ে ঘুরতে এসে গোসল করার সময় পানিতে ডুবে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মেঘনা শিল্পাঞ্চল এলাকার মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত মেঘনা ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

পনিতে ডুবে নিহত দুই শিক্ষার্থী হলো, রাজধানীর কদমতলী থানার শনিরআখড়া এলাকার রাজু মিয়ার ছেলে মেরাজ হোসেন (১৫) এবং ধনিয়া এলাকার ফারুক ভুইয়ার ছেলে কায়েস ভুইয়া। এদের মধ্যে মেরাজ শনিরআখড়া এলাকার বর্ণমালা স্কুলের দশম শ্রেণির এবং কায়েস এ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। 

বেঁচে থাকা শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা ৭/৮ জন একে অপরের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে রাজধানীর মনির আখড়া থেকে স্কুল ফাঁকি দিয়ে সোনারগাঁওয়ে ঘুরতে আসে। দুপুর ২টার দিকে সকলে গোসল করতে মেঘনা নদীতে নামে। এ সময় পানিতে তলিয়ে যাওয় দুই জনকে উদ্ধার করলেও পানির প্রবল স্রোতে মেরাজ ও কায়েস পানিতে তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৪ ঘন্টা চেষ্টা করে দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করে। 



সোনারগাঁও দর্পণ
:

মোবাইল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আনিরা এন্টারপ্রাইজের কারখানা চত্ত্বরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন আসন্ন মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন। শুক্রবার (৫ জুন) বাদ জুম্মা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ৫৬টি গ্রামের কমপক্ষে সহস্রাধিক ভোটার সতস্ফুর্তভাবে অংশ নেন এই ঈদ পুণর্মিলনীতে।

দলে দলে ভেটারদের আগমনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন নিজে তাদের স্বাগত জানান। পরে মধ্যান্যভোজে অংশ নেন অতিথিরা।


এদিকে, মধ্যান্যভোজ চলাকালীন অতিথিদের উদ্দেশ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা উন্নয়ন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন  আগত অতিথিরা। পরে বিভিন্ন ভোটারদের প্রশ্নের জবাব দেন মোগরাপাড়া ইউনিয়েনের চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন। বলেন, নির্বাচনের আগে যেভাবে ইউনিয়নবাসীর সুখে-দুঃখে  পাশে ছিলেন, আছেন, নির্বাচনের পরেও যেন একইভাবে থাকতে পারেন সে দোয়া চান।

প্রত্যাশা করেন উপস্থিত সকলে নিজ নিজ পরিবারের নারী-পুরুষ সদস্যদের যেন উদ্ভুদ্ব করেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিসাবে আশরাফ উদ্দিনকে নির্বাচিত করতে সহায়তার হাতকে প্রসারিত করার।


সোনারগাঁও দর্পণ :

সোনারগাঁওয়ে এভারগ্রিন মাদকাশক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি থাকা রোগিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পূণর্বাসন কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া এলাকায় অবস্থিত এভারগ্রিন মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম ফয়জল (৫৫)। তিনি উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের পশ্চিম বেহাকৈর এলাকার মৃত ফোছন মিয়ার ছেলে।

ফয়জলের মৃত্যুর পর একাধিক ভুক্তভোগী ও স্বজনরা সেখানে অমানবিক নির্যাতন, অব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসা সেবার নামে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন।

ওই পূণর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন এমন একজন ভুক্তভোগী জানান, এভারগ্রীন মাদকাশক্তি পূণর্বাসন কেন্দ্রটিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নেই বললেই চলে। রোগীদের বিভিন্ন সময় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। তার ভাষ্যমতে, কেন্দ্র থেকে রোগি পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেককে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হতো এবং এ নিয়ে প্রায়ই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো।

ওই যুবক জানায়, পূণর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক ইসমাঈল মেম্বার এর ছেলে রকি ও তার শালা, উজ্জ্বল, মনির, হালিম এবং সজিব পালাক্রমে পেটাতো। ফয়জুলের সাথে একই দিন তাদের কয়েকজনকেও বেধরক পিটানো হয়। কিন্তু ফয়জুলকে অজ্ঞাত কারণে পেটাতে পেটাতে তাদের চোখের সামনেই মেরে ফেলা হয়েছে।

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও কেন্দ্রটির পরিচালক সজীব বা সংশ্লিষ্ট কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি। 

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এবং নিহতের স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। 


MKRdezign

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget