Halloween Costume ideas 2015

সোনারগাঁও দর্পণ

সর্বশেষ পোস্ট
অপরাধ অর্থ ও বাণিজ্য আওয়ামী লীগ আড়াইহাজার আদালত আন্তর্জাতিক উত্তরা পূর্ব থানা কাঁচপুর কুমিল্লা খেলাধুলা গজারিয়া গণমাধ্যম গাজীপুর চট্টগ্রাম জাতীয় জামপুর জামায়াত ঢাকা তথ্যপ্রযুক্তি থানা প্রশাসন দাউদকান্দি ধর্ম নরসিংদী নারায়ণগঞ্জ নোয়াখালী নোয়াগাও পর্যটন ও পরিবেশ পিরোজপুর পৌরসভা প্রশাসন ফতুল্লা বন্দর বরগুনা বারদী বিএনপি বিনোদন বৈদ্যের বাজার ভারত ভুলতা মুন্সিগঞ্জ মোগরাপাড়া রাজনীতি রাজনীতি. রাজনীতি. বিএনপি রাজনীতি.মোগরাপাড়া রাজশাহী রূপগঞ্জ র‌্যাব র‌্যাব-11 শম্ভুপুরা শিক্ষা শিক্ষা ও সংস্কৃতি শিবির সন্মান্দি সংস্কৃতি সাদীপুর সাভার সারাদেশ সিদ্ধিরগঞ্জ সিভিল প্রশাসন সিলেট সেনা সোনারগাঁও স্বাস্থ্য কথা হাইওয়ে পুলিশ


সোনারগাঁও দর্পণ :

সোনারগাঁওয়ে মাদকাসক্ত চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ফয়জল হত্যা মামলায় অভিযুক্ত প্রধান আসামী সজিব আহম্মেদ ওরফে সাদ্দাম (৪০) কে গ্রেফতার করেছে সোনারগাঁও থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে কুমিল্লা সদর থানার পাদুয়ার বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার হওয়া সজিব ওরফে সাদ্দাম সোনারগাঁওয়ে উপজেলার বৈদ্দেরবাজার ইউনিয়নের মনারবাগ এলাকার ছগির আহমেদ এর ছেলে এবং একই ইউনিয়নের হাড়িয়া এলাকার এভারগ্রীন মাদকাসক্ত পূণর্বাসন কেন্দ্রের মালিক। 

জানাযায়, গত ৪ জুন সোনারগাঁওয়ের বৈদ্দের বাজারের হাড়িয়া এলাকায় অবস্থিত এভারগ্রীন মাদকাশক্তি পূণর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন কাঁচপুর ইউনিয়নের পশ্চিম বেহাকৈর এলাকার মৃত ফোছন মিয়ার ছেলে ফয়জলকে পিটিয়ে হত্যা করে পূণর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক সজিব, ইসমাঈল মেম্বার এর ছেলে রকি ও তার শালা, উজ্জ্বল, মনির, হালিম। 

নির্যাতনের এক পর্যায় তাকে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফয়জলকে মৃত ঘোষণা করেন। 

এদিকে, ওই ঘটনার পর কেন্দ্রটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সজিবসহ সকলে পালিয়ে যায়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দিবাগত গভীর রাতে সোনারগাঁও থানার এসআই (সাব-ইন্সপেক্টর, নিরস্ত্র) সুরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল কুমিল্লা সদর থানার পাদুয়ার বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। 

ধৃত আসামী  সজিব আহম্মেদ ওরফে সাদ্দামের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।ন ইতোমধ্যে রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান এসআই সুরুজ্জামান।



সোনারগাঁও দর্পণ :

সোনারগাঁওয়ের প্রথম লিফটযুক্ত বহুতল শপিংমল “আল-মদিনা”তে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের পাশাপাশি সোনারগাঁও সরকারি কলেজের রোভার স্কাউট এবং স্বেচ্ছাসেবীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এক ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। অগ্নিকাণ্ডে মার্কেটটিতে থাকা বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মালিকপক্ষ ক্ষতির পরিমান বিষয়ে ধারণা না করতে পারলেও ব্যবসায়ীদের ধারণা ১৫/২০ লাখ টাকার সমপরিমান ক্ষতি হতে পারে।

এদিকে, শপিংমলটিতে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সর্টসার্কিটের কারণে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে।

অপরদিকে, অগ্নিকাণ্ডের সময় শপিংমলটিতে থাকা একটি স্কুলে ছোট-ছোট শতাধিক কোমলমতি শিশুরা অবস্থান করছিল। ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয়দের মতে, আগুনের তীব্রতার যে ত্যাজ ছিল, শুধুমাত্র আল্লাহ সহায় ছিলেন বলে শিশুগুলো প্রাণে বেঁচে গেছে। নিঃসন্দেহে তাদের ভাগ্য ভালো।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সন্দেহের তীর মালিক পক্ষের দিকে। তারা বলছেন, কোন বড় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বেশি ভাড়া পাওয়ার প্রত্যাশায় মার্কেটটির মালিক পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে।

তারা জানান, আল-মদিনা শপিংমল সোনারগাঁওয়ের প্রথম কোন সেন্ট্রাল এসি যুক্ত মার্কেট। মার্কেটটি আধুনিক সুবিধাসম্বলিত হলেও নির্মাণের পর এখানে তেমন কোন ক্রেতা না আসায় ব্যবসায়ীরা প্রচুর ক্ষতিগ্রস্ত। অনেকে তাদের দোকান ছেড়ে অন্য কোন ব্যবসা করছেন। এখনো আমরা যারা আছি তারা অদ্যবধি ক্ষতির সম্মুখিন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ীরা জানান, মাস তিন আগে থেকে মালিক পক্ষ সকল ব্যবসায়ীদের দোকান ছেড়ে দিতে বলছে। কারণ জানতে চাইলে, মালিকপক্ষ মার্কেট সংস্কারের কথা বলেন। মার্কেট সংস্কার করতে দোকান ছাড়তে হবে কেন ? এমন প্রশ্নের উত্তরে বিভিন্ন হুমকী আসে। পরে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, পুরো ভবনটিতে অজ্ঞাত কোন হাসপাতাল হবে। আগামী বছরের প্রথম থেকে তারা তাদের কার্যক্রম শুরু করবে। এরমধ্যে যারা আসবে তাদের মতো করে তাদের ব্যবসার ডেকোরেশনের কাজ করবে বলে জানি। 

তাছাড়া, গত ১৭ জুন বুধবার দোকান ছেড়ে দেওয়ার জন্য মালিক পক্ষ নোটিশ টাঙ্গিয়ে দেওয়ার একদিন পরই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। তাই মালিক পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে আমরা মনে করি। 

তবে মার্কেটে থাকা ব্যবসায়ীদের তিন মান ধরে অন্যত্র চলে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে স্বীকার করে মালিকপক্ষের দাবি, অগ্নিকাণ্ডটিতে তাদের কোন হাত নেই। নিজ প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়া আত্মহত্যার শামিল। এটা তারা কেন করবেন। তাদেরও ধারণা, বিদ্যুতের সর্টসার্কিট থেকেই এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।



সোনারগাঁও দর্পণ :

নাতনিকে ধর্ষকের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে ধর্ষকের ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত যখম হয়েছেন বৃদ্ধা নানি রেজিয়া বেগম (৬০)। বুধবার (১৭ জুন) ঘটনাটি ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর গ্রামে। এই ঘটনায় আহত  রেজিয়া বেগম বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযুক্ত জামান (৪৫) একই গ্রামের সোবহান মিয়ার ছেলে। স্থানীয়ভাবে জামান একজন অন্যতম শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবেই পরিচিত।

থানায় করা অভিযোগে জানা যায়, লম্পট জামান দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও বিক্রির সাথে জড়িত। একই এলাকায় হওয়ায় জামান দীর্ঘ দিন ধরেই রেজিয়া বেগমের নাতনী জান্নাতুল ফেরদৌসকে ইভটিজিং এর পাশাপাশি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এই বিষয়ে জান্নাতুলের স্বামী মোঃ রাহাত (২৫) প্রতিবাদ করলে জামান তাকেও মারধর ও গালিগালাজ করে।

তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জান্নাতুল নিজ বাড়িতে একা থাকার সুযোগে জামান জান্নাতের ঘরে প্রবেশ করে। এরপর সে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক জান্নাতুলকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করে। এমতাবস্থায় জান্নাতের আর্তচিৎকারে নানি রেজিয়া বেগম দ্রুত ঘরের সামনে গিয়ে দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরবর্তীতে তিনি ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে নাতনীকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। 

এ সময় জামান ক্ষিপ্ত হয়ে তার কোমরে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে রেজিয়া বেগমের হাতে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। একপর্যায় নাতি ও নাতিনকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করে পালিয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

সোনারগাঁও থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত জামানকে গ্রেফতারে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 


সোনারগাঁও দর্পণ :

স্কুল ফাঁকি দিয়ে সহপাঠিরা রাজধানী থেকে সোনারগাঁওয়ে ঘুরতে এসে গোসল করার সময় পানিতে ডুবে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মেঘনা শিল্পাঞ্চল এলাকার মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত মেঘনা ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

পনিতে ডুবে নিহত দুই শিক্ষার্থী হলো, রাজধানীর কদমতলী থানার শনিরআখড়া এলাকার রাজু মিয়ার ছেলে মেরাজ হোসেন (১৫) এবং ধনিয়া এলাকার ফারুক ভুইয়ার ছেলে কায়েস ভুইয়া। এদের মধ্যে মেরাজ শনিরআখড়া এলাকার বর্ণমালা স্কুলের দশম শ্রেণির এবং কায়েস এ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। 

বেঁচে থাকা শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা ৭/৮ জন একে অপরের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে রাজধানীর মনির আখড়া থেকে স্কুল ফাঁকি দিয়ে সোনারগাঁওয়ে ঘুরতে আসে। দুপুর ২টার দিকে সকলে গোসল করতে মেঘনা নদীতে নামে। এ সময় পানিতে তলিয়ে যাওয় দুই জনকে উদ্ধার করলেও পানির প্রবল স্রোতে মেরাজ ও কায়েস পানিতে তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৪ ঘন্টা চেষ্টা করে দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করে। 



সোনারগাঁও দর্পণ
:

মোবাইল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আনিরা এন্টারপ্রাইজের কারখানা চত্ত্বরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন আসন্ন মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন। শুক্রবার (৫ জুন) বাদ জুম্মা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ৫৬টি গ্রামের কমপক্ষে সহস্রাধিক ভোটার সতস্ফুর্তভাবে অংশ নেন এই ঈদ পুণর্মিলনীতে।

দলে দলে ভেটারদের আগমনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন নিজে তাদের স্বাগত জানান। পরে মধ্যান্যভোজে অংশ নেন অতিথিরা।


এদিকে, মধ্যান্যভোজ চলাকালীন অতিথিদের উদ্দেশ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা উন্নয়ন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন  আগত অতিথিরা। পরে বিভিন্ন ভোটারদের প্রশ্নের জবাব দেন মোগরাপাড়া ইউনিয়েনের চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন। বলেন, নির্বাচনের আগে যেভাবে ইউনিয়নবাসীর সুখে-দুঃখে  পাশে ছিলেন, আছেন, নির্বাচনের পরেও যেন একইভাবে থাকতে পারেন সে দোয়া চান।

প্রত্যাশা করেন উপস্থিত সকলে নিজ নিজ পরিবারের নারী-পুরুষ সদস্যদের যেন উদ্ভুদ্ব করেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিসাবে আশরাফ উদ্দিনকে নির্বাচিত করতে সহায়তার হাতকে প্রসারিত করার।


সোনারগাঁও দর্পণ :

সোনারগাঁওয়ে এভারগ্রিন মাদকাশক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি থাকা রোগিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পূণর্বাসন কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া এলাকায় অবস্থিত এভারগ্রিন মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম ফয়জল (৫৫)। তিনি উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের পশ্চিম বেহাকৈর এলাকার মৃত ফোছন মিয়ার ছেলে।

ফয়জলের মৃত্যুর পর একাধিক ভুক্তভোগী ও স্বজনরা সেখানে অমানবিক নির্যাতন, অব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসা সেবার নামে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন।

ওই পূণর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন এমন একজন ভুক্তভোগী জানান, এভারগ্রীন মাদকাশক্তি পূণর্বাসন কেন্দ্রটিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নেই বললেই চলে। রোগীদের বিভিন্ন সময় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। তার ভাষ্যমতে, কেন্দ্র থেকে রোগি পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেককে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হতো এবং এ নিয়ে প্রায়ই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো।

ওই যুবক জানায়, পূণর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক ইসমাঈল মেম্বার এর ছেলে রকি ও তার শালা, উজ্জ্বল, মনির, হালিম এবং সজিব পালাক্রমে পেটাতো। ফয়জুলের সাথে একই দিন তাদের কয়েকজনকেও বেধরক পিটানো হয়। কিন্তু ফয়জুলকে অজ্ঞাত কারণে পেটাতে পেটাতে তাদের চোখের সামনেই মেরে ফেলা হয়েছে।

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও কেন্দ্রটির পরিচালক সজীব বা সংশ্লিষ্ট কাউকে সেখানে পাওয়া যায়নি। 

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এবং নিহতের স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। 



সোনারগাঁও দর্পণ :

স্ট্রোকে আক্রান্ত পিতার হার্টএ্যাটাকে মৃত্যুর সংবাদ ছেলেকে দিতে গিয়ে ওই ছেলের ঝুলন্ত অর্ধগলিত মরদেহের সন্ধান পেয়েছে এলাকাবাসী। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের দমদমা গ্রামে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে আটটার দিকে ছেলের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায় তার বোনের স্বামী।   

হার্টএ্যাটাকে মৃত্যু হওয়া ব্যক্তির নাম শাহজাহান (৬০)। তিনি পেশায় একজন সিএনজি চালক ছিলেন। অপরদিকে, আত্মহননকারী ছেলের নাম উজ্জল (৩৬), তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রী হলেও মাদকাগ্রস্থ ছিল বলে এলাকাবাসীর দাবি। 


স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, শাহজাহান দমদমা গ্রামের দমদমা ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় অনেক বছর আগে থেকেই বাড়ি নির্মাণ করে স্ত্রী, মেয়ে ও দুই ছেলে নিয়ে বসবাস করতেন। তিনি বেশ কিছুদিন আগে স্ট্রোক হওয়ার কারণে অনেকটা অচল ব্যক্তির মতোই একটি ভাঙ্গা ঘরে দিনযাপন করতেন। সংসারে ছেলে-মেয়ে থাকলেও কয়েক বছর আগে মেয়ে পূণরায় বিয়ে করে শশুর বাড়িতে থাকে। স্বামীর সাথে ঝগড়া করে মেয়ের বাড়িতে থাকেন শাহজাহানের স্ত্রী। অপর এক ছেলে জসিম সৌদি প্রবাসী। উজ্জল এক সময় প্রবাস জীবন কাটালেও কয়েক বছর ধরে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে একাই বসবাস করতেন।

এলাকাবাসী জানায়, ছেলে ও বাবা একই বাড়িতে বসবাস করলেও ছেলে-বাবা’র সাথে বনিবনা না হওয়ায় ছেলের ঘরের পাশে ছোট একটি জীর্নশীর্ণ ঘরে বসবাস করতেন শাহজাহান। বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে শাহজাহানকে তার মেয়ের স্বামী জামাল হোসেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহজাহানকে মৃত ঘোষণা করেন। জানান, হার্টএ্যাটাকে কিছুক্ষণ আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে, জামাল তার শশুরের লাশ হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে রাস্তার পাশে রেখে প্রবল ক্ষোভ নিয়ে ছেলেকে ডাকতে রাস্তার পাশে থাকা ঘরের দরজা ধাক্কাতে থাকে। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর কোন সাড়া না পেয়ে  জানালার একটি অংশ খুলতেই ভেতর থেকে পচাঁ দুর্গন্ধ বের হয়। পরে জানালার পর্দা সারাতেই উজ্জলের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় জামাল।

জামাল জানায়, তার শশুর মারা গিয়েছে আর শ্যালক নেশায় বুধ হয়ে ঘরে দরজার কপাট লাগিয়ে ঘুমিয়ে রয়েছে মনে করে অনেক ক্ষোভ নিয়ে উজ্জলকে ডাকাডাকি করি। পরে জানালার একটি অংশ খুলতেই পচাঁ দুর্গন্ধে আমার বমি হওয়ার উপক্রম।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানায়, শাহজাহান সারা জীবন সিএনজি চালিয়ে অনেক কষ্টে জীবন নির্বাহ করেছেন। তারপরও সবাইকে নিয়ে সুখে থাকতে চেয়েছিলেন কিন্তু শাহজাহানের স্ত্রীর জন্যই তাদের সংসারে সকল অশান্তির কারণ। মায়ের অতি আশকারায় সন্তানরা মাদকসহ নানা অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পরে। এমনকি উজ্জল বিদেশ থেকে দেশে ফিরে বিয়ে করলেও মা আর বোনের কারণে উজ্জলের স্ত্রী চলে যায়।

স্থানীয় একাধিক গ্রামবাসী জানায়, গত সোমবার পর্যন্ত উজ্জলকে এলাকার অনেকের সাথেই সুস্থ্য ও  স্বাভাবিক কথা বলতে দেখা গেছে। তবে, কেন আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নিয়েছে তা সবার অজানা।

সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, কিছুক্ষণ আগে (৯টা ৫০ মিনিট) শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাবে। 


MKRdezign

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget