সোনারগাঁও দর্পণ :
সোনারগাঁওয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাতদলের হামলায় বাড়ির কর্তা নজরুল ইসলাম (৫০) নিহত হয়েছেন। ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মুমুর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন নজরুলের স্ত্রী শাহনাজ বেগম (৪০)। বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের মুক্তিশপুর গ্রামে ডাকাতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহত নজরুল একই এলাকার নিহত গাজী মিস্ত্রির ছেলে।
ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ৫জনের মধ্যে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা তিনজনকে চিনতে পেরেছেন বলে পুলিশের কাছে জানান তারা। এরমধ্যে উজ্জল নামে এক জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক হওয়া উজ্জল একই এলাকার হাশেমের ছেলে। একই এলাকার ভাড়টিয়া ছইক্কার ছেলে দেলোয়ার এবং নিহতের আত্মীয় (মামাতো ভাই) নুর মোহাম্মদনের ছেলে আরাফাত নামে অপর একজনকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, নজরুল ইসলাম পেশায় একজন সুতা ব্যবসায়ী। বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে নজরুলের বাড়িতে অজ্ঞাত ব্যক্তি নজরুলের নাম ধরে ডাকেন এবং দরজা খুলতে বলেন। গ্রামের পরিচিত কেউ ভেবে দরজা খুলে দেন নজরুলের স্ত্রী শাহনাজ। পরক্ষণেই মুখোশ পরা দেশীয় অস্ত্র হাতে ৫-৭ জনের একদল ডাকাত নজরুল ও তার পরিবারের উপর হামলা চালায়।
আহত শাহনাজের বরাত দিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এলাকাবাসীর ভাষ্য মতে, দেশীয় অস্ত্র হাতে ডাকাতরা ঘরে প্রবেশ করেই নজরুল ও তার স্ত্রীর হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করে বাঁলিশ চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। বাঁলিশ চাপা ও শারীরিক নির্যাতনে শাহনাজ ইচ্ছাকৃতভাবে মরে যাওয়ার ভান করলে নজরুল ডাকাতদের চিনেছে, সকালে তাদের দেখে নিবে বলে হুমকি দেয়। এদিকে, ডাকাতদের ধস্তাধস্তিতে শাহনাজকে বাঁধ দেওয়া রশি (দড়ি)’র বাঁধ কিছুটা নড়বড়ে হয়ে যায়। তারপরও ইচ্ছাকৃতভাবে অচেতন হয়ে পড়ে থাকে।
এদিকে, ডাকাতদের এমন হুমকির পরই ডাকাতরা নজরুলকে নির্যাতন করে। তাদের মধ্যে দুই-একজন ঘরের চাবির সন্ধান করে চাবি নিয়ে ঘর থেকে স্বর্ণ, নগদ টাকা ও মোবাইল সেট নিয়ে যায়। তথ্যদাতার ভাষ্যমতে, ঘর থেকে ৬ ভরি স্বর্ণ, নগদ ৬০ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল সেট লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা।
পরে ডাকাতরা চলে গিয়েছে বুঝতে পেরে নজরুলের স্ত্রী শাহনাজ জোরে চিৎকার করলে আশেপাশের বাড়ির লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে এবং ডাকাতদের ধরতে স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে গ্রামবাসী বাহির হয়ে একই এলাকার হাশেমের ছেলে উজ্জলকে আটক করে। শাহনাজের ভাষ্যমতে, ওই ঘটনার সাথে স্থানীয় ভাড়াটিয়া দেলোয়ার এবং আরাফাত নামে অপর দুইজনকে চিনতে পেরেছেন।
স্থানীয়রা জানান, নিহতের শরীরের গলা, বুকের ডান পাশে এবং বাহুর পেশির স্থানে কিছুটা চামড়া উঠানো দেখতে পান। দেখতে অনেকটা সরু ছিদ্র হওয়ার মতো।
নিহতের ঘটনা স্বীকার করে সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। একজন আটক আছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আহত শাহনাজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিহতের লাশ জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক সাঈদ জানান, এটা কি ডাকাতি না-কি অন্য কিছু তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে মুল ঘটনা বলা সম্ভব।

Post a Comment