সোনারগাঁও দর্পণ :
পাওনা মাত্র ৩৬ হাজার টাকা না দিয়ে দাফন কাজের প্রস্তুতি নেওয়ায় মৃত ব্যক্তির জানাজা আটকে দিয়েছেন ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। পরে পাওনা ৩৬ হাজার টাকা পরিশোধের পর মৃতের জানাজা ও দাফন কাজ সম্পন্ন করেন পরিবারের সদস্যরা।
অমানবিক এ ঘটনাটি ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সন্মান্দি ইউনিয়নের মশুরাকান্দা গ্রামে।
মৃত গোলজার হোসেনের পরিবারের সদস্যরা জানায়, গোলজার হোসেন এবং সনমান্দী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম প্রধানের মধ্যে কারণে দেনা-পাওনা ছিল। যা গোলজারের পরিবার জানতো। গোলজার
মারা যাওয়ার পর শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে তার জানাজার জন্য মরদেহ মশুরেরকান্দা ঈদগাঁহ
মাঠে নেওয়া হয়।
এ সময় সনমান্দি ইউনিয়নের ৬ নং
ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম প্রধান তার পাওনা ৩৬ হাজার টাকার জন্য জানাজা
কাজে বাঁধা দেন।
মৃত গোলজারের স্বজনরা জানান,
গোলজার দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। পবিত্র ঈদুল আযহার দিন তিনি মারা যান। বিএনপি নেতা সায়েমের সাথে ব্যবসায়িক কিছু লেনদেন
ছিল, যা থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু মাত্র ৩৬ হাজার টাকার জন্য দীর্ঘ দিনের ব্যবসায়িক
বন্ধুর জানাজা আটকে দিবে তা আমরা কখনো ভাবিতে পারিনি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।
মৃত গোলজারের কিশোর ছেলে জিসান (১২) জানায়,
তারা সংসারে দুই ভাই, এক বোন এবং তার মা রয়েছেন। বাবার কাছে পাওনা টাকার বিষয়টি আমাদের
জানিয়েছিলেন। বাবা মারা যাওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম দাফনের পর একটা সময় করে সকলের পাওনা
টাকা পরিশোধের বিষয়ে কথা বলে দেনা-পাওনা শেষ করবো। কিন্তু যে ঘটনাটা ঘটোনো হয়েছে তা
খুবই দুঃখজনক।
অভিযুক্ত সায়েম বলেন, গোলজারের কাছে টাকা পাওনা ছিলাম।
বহুবার তাগাদা দেওয়ার পরও টাকা না দেওয়ায় আমি টাকার জন্য এ কাজ করতে বাধ্য হয়েছি। টাকা
পেয়ে আমি চলে আসি।
এদিকে, জানাজায় উপস্থিত শত শত স্থানীয় এলাকাবাসী এ ঘটনাটিকে
অত্যন্ত অমানাবিক ও মর্মান্তিক হিসেবে অবহিত করেছেন।

Post a Comment