সোনারগাঁও দর্পণ :
বেতন-বোনাস পরিশোধ না করায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছে পোশাক শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার ‘চৈতী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক’ গার্মেন্টসের শতশত বিক্ষুব্ধ নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা এ আন্দোলন করে। এর ফলে মহাসড়কের মেঘনা টোল প্লাজা থেকে মদনপুর পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কে তীব্র যানজটে সাধারণ যাত্রীরা চরম বিপাকে পরেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোনারগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়ে পিছু হটে। পরবর্তীতে পুলিশ ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে পূণরায় শ্রমিকদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে ব্যর্থ হয়ে টিয়ারসেল ছুড়লে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শ্রমিক সূত্রে জানাগেছে, আগামী ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আযহা। সরকারের পক্ষ থেকে ২৫ মে এর মধ্যে শ্রমিকদের সকল প্রকার বেতন-বোনাস পরিশোধের নির্দেশনা থাকলেও চৈকি কম্পোজিট লিমিটেড এখনো শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস সম্পূর্ণ পরিশোধ না করায় সোনারগাঁওয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।
শ্রমিকরা জানায়, গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ সরকারের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শ্রমিকদের ২০ দিনের বেতন ২৫ হাজার টাকা পাওনা না করে মাত্র ৬ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে এবং বাকি টাকা ঈদের পর দেওয়া হবে বলে জানায়। তারা জানায়, একে হচ্ছে দ্রব্যমূল্যের চড়া দাম অপরদিকে, ঈদ আসন্ন। এই সামান্য টাকা দিয়ে আমরা কীভাবে পরিবার নিয়ে ঈদ করব ভেবে পাচ্ছিনা। তাই বাধ্য হয়েই আমরা বেতন-বোনাস আদায়ের দাবিতে মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছি।
চৈতি গার্মেন্টের এজিএম মিজানুর রহমান দাবি করেন প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ৮ হাজার শ্রমিক কাজ করে। তাদের সকল পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে। শ্রমিকদের মধ্যে দুই তিনশো শ্রমিকদের অর্জিত ছুটির টাকা বাকী রয়েছে যা ঈদের পরপরই পরিশোধ করা হবে। তারপরও তারা বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে, আমরা বিষয়টি যত দ্রুত শেষ করা যায় সেই চেষ্টা করছি।
সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা শুরু থেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে বকেয়া টাকার দাবিতে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমরা মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি যেন দ্রুত একটি সমঝোতায় আসা যায়। অফরদিকে, মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আবারো কথা বলি। তারা কথা না শুনলে দুই রাউন্ড টিয়ারসেল ছুড়তে বাধ্য হই। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম শেখ বলেন, মহাসড়ক অবরোধের কারণে মেঘনা টোল প্লাজা থেকে মদনপুর পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঘরমুখী সাধারণ মানুষ ও রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সগুলো আটকে পড়েছে। আমরা অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছি এবং শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Post a Comment