সোনারগাঁও দর্পণ :
সোনারগাঁওয়ের প্রথম লিফটযুক্ত বহুতল শপিংমল “আল-মদিনা”তে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের পাশাপাশি সোনারগাঁও সরকারি কলেজের রোভার স্কাউট এবং স্বেচ্ছাসেবীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এক ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। অগ্নিকাণ্ডে মার্কেটটিতে থাকা বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মালিকপক্ষ ক্ষতির পরিমান বিষয়ে ধারণা না করতে পারলেও ব্যবসায়ীদের ধারণা ১৫/২০ লাখ টাকার সমপরিমান ক্ষতি হতে পারে।
এদিকে, শপিংমলটিতে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সর্টসার্কিটের কারণে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে।
অপরদিকে, অগ্নিকাণ্ডের সময় শপিংমলটিতে থাকা একটি স্কুলে ছোট-ছোট শতাধিক কোমলমতি শিশুরা অবস্থান করছিল। ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয়দের মতে, আগুনের তীব্রতার যে ত্যাজ ছিল, শুধুমাত্র আল্লাহ সহায় ছিলেন বলে শিশুগুলো প্রাণে বেঁচে গেছে। নিঃসন্দেহে তাদের ভাগ্য ভালো।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সন্দেহের তীর মালিক পক্ষের দিকে। তারা বলছেন, কোন বড় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বেশি ভাড়া পাওয়ার প্রত্যাশায় মার্কেটটির মালিক পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে।
তারা জানান, আল-মদিনা শপিংমল সোনারগাঁওয়ের প্রথম কোন সেন্ট্রাল এসি যুক্ত মার্কেট। মার্কেটটি আধুনিক সুবিধাসম্বলিত হলেও নির্মাণের পর এখানে তেমন কোন ক্রেতা না আসায় ব্যবসায়ীরা প্রচুর ক্ষতিগ্রস্ত। অনেকে তাদের দোকান ছেড়ে অন্য কোন ব্যবসা করছেন। এখনো আমরা যারা আছি তারা অদ্যবধি ক্ষতির সম্মুখিন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ীরা জানান, মাস তিন আগে থেকে মালিক পক্ষ সকল ব্যবসায়ীদের দোকান ছেড়ে দিতে বলছে। কারণ জানতে চাইলে, মালিকপক্ষ মার্কেট সংস্কারের কথা বলেন। মার্কেট সংস্কার করতে দোকান ছাড়তে হবে কেন ? এমন প্রশ্নের উত্তরে বিভিন্ন হুমকী আসে। পরে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, পুরো ভবনটিতে অজ্ঞাত কোন হাসপাতাল হবে। আগামী বছরের প্রথম থেকে তারা তাদের কার্যক্রম শুরু করবে। এরমধ্যে যারা আসবে তাদের মতো করে তাদের ব্যবসার ডেকোরেশনের কাজ করবে বলে জানি।
তাছাড়া, গত ১৭ জুন বুধবার দোকান ছেড়ে দেওয়ার জন্য মালিক পক্ষ নোটিশ টাঙ্গিয়ে দেওয়ার একদিন পরই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। তাই মালিক পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে আমরা মনে করি।
তবে মার্কেটে থাকা ব্যবসায়ীদের তিন মান ধরে অন্যত্র চলে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে স্বীকার করে মালিকপক্ষের দাবি, অগ্নিকাণ্ডটিতে তাদের কোন হাত নেই। নিজ প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়া আত্মহত্যার শামিল। এটা তারা কেন করবেন। তাদেরও ধারণা, বিদ্যুতের সর্টসার্কিট থেকেই এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।

Post a Comment