সোনারগাঁও দর্পণ :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিবাদমান দুই গ্রুপের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকটি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের পর সে সকল বাড়ি-ঘর থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং মোবাইল ফোনসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার ঘটানো একটি ঘটনার সূত্র ধরে শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে উপজেলা পিরোজপুর ইউনিয়নের পাঁচানী এলাকায় বিবাদমান হামিদ গ্রুপের সাথে ছোট কোরবানপুর গ্রামের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী রাসেল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও লুটপাটের এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা পিরোজপুর ইউনিয়নের বিবাদমান ছোট কুরবানপুর গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী রাসেল গ্রুপের সাথে পাঁচআনী এলাকার হামিদ গ্রুপের প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির মধ্যে ইউনিয়নের খাসেরগাঁও এলাকায় সাবেক মেম্বার মনির হোসেনের ভাতিজার ছেলে ও রাসেল গ্রুপের সদস্য সোহাগ নামে একজনকে কুপিয়ে আহত করে হামিদ গ্রুপের লোকজন। এরই জের ধরে শুক্রবার ভোরে রাসেলের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল পাঁচানী এলাকার বিভিন্ন বাড়ি-ঘরে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা পাঁচআনী গ্রামের এনামুল হকের বাড়িতে হামলা ভাঙচুর চালিয়ে দুটি গরু, নগদ আড়াই লাখ টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন, প্রায় দুই ভরি স্বর্ণ ও ১৫ ভরি রুপা লুট করে নিয়ে যায়।
এছাড়া, হাবিবুল্লাহ ওরফে হাবু মিয়ার বাড়ি থেকে মসজিদের ১৭ হাজার টাকা, ব্যক্তিগত সাত হাজার টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায় রাসেল গ্রুপের লোকজন। এছাড়া স্থানীয় আমান উল্লাহর বাড়িতে ভাংচুর চালায় এবং মনি ও দিদারের বাড়ি থেকে দুটি গরু নিয়ে যায় এবং বাড়ির সামনে থাকা খড়ের পালায় আগুন দেয়।
এতেও ক্ষ্যান্ত হয়নি রাসেল গ্রুপ। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘরের টিনের বেড়া কেটে ঘরে থাকা আসবাবপত্র ব্যাপক ভাংচুর করে।
সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। উভয় পক্ষের কেউ এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Post a Comment