সোনারগাঁও দর্পণ :
দেশের বিদ্যুৎপল্লী অঞ্চল খ্যাত সোনারগাঁওয়ের মেঘনা শিল্পাঞ্চলের পাশে অবস্থিত মেঘনা ঘাট ৭১৮ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্টের “জারা মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেড’র ক্যান্টিনে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিষ্ফোরণে বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত কমপক্ষে ১২ শ্রমিক দগ্ধ হয়েছে। দগ্ধদের ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এ পাঠানা হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুর ১টার দিকে রান্না ঘরের গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে সৃষ্ট এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের খাবারের জন “জারা মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেড’র ক্যান্টিনে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ভিড় করে। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটলে মুহূর্তেই পুরো ক্যান্টিনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে মনির হোসেন, নাজমুল শেখ, সাইফুল ইসলাম, রামিজুল, তুহিন শেখ, ওসমান গনি, সুপ্রভাত ঘোষ, বদরুল হায়দার, আমির হোসেন, শঙ্কর, কাউসার ও আল-আমিন দগ্ধ হয়।
আহতদের উদ্ধার করে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের সেফটি কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম জানান রান্নার পর চুলা সঠিকভাবে না নেভানোর কারণে দীর্ঘক্ষণ গ্যাস জমে থাকার পর নতুন করে আগুন ধরাতে গেলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে।
এদিকে, ঘটনার পর ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা কর্মীরা সাংবাদিকদের ভেতরে প্রবেশে বাধা প্রদান করেন এবং তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম সারোয়ার জানান, আমরা সংবাদ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে যাই। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রান্নার কক্ষে জমে থাকা গ্যাস থেকে এই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হতে পারে। ঘটনার সময় সেখানে কর্মরত বেশ কয়েকজন শ্রমিক দগ্ধ ও আহত হয়েছেন। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না তাও তদন্ত করা হবে।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক ওসমান গনী জানান, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে “ক্যান্টিনের রান্নাঘরে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন বা বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় গ্যাস বের হতে পারেনি, যা বিস্ফোরণের তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে”।
আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, বদ্ধ জায়গায় গ্যাস লিকেজ হয়ে জমে থাকার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। রান্নাঘরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো ত্রুটি ছিল কি-না, তা আমরা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছি। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।

Post a Comment