সোনারগাঁও দর্পণ :
নানা নাটকীয়তার পর নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) জামায়াত মনোনীত প্রার্থী প্রিন্সিপাল ডঃ ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়ার প্রার্থীতা বহাল রয়েছে। নেতা-কর্মীদের তোপের মুখে অবরুদ্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারী) মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে প্রত্যাহার আবেদন জমা করতে না পারায় তার প্রত্যাহার পত্র গ্রহণ করেনি নির্বাচন কমিশন।
জামায়াত জোটের সমীকরণ ও হিসেব নিকাশে ড. ইকবালের প্রার্থীতা নিয়ে সংশয় ছিল পুরোটা সময়। প্রথমে ১১ দলে জোট থাকাকালীন জোটের অন্যতম শরিক ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীকে এই আসনটি ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে অনেক গুঞ্জন ছিল। পরে ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে বেরিয়ে গেলে আসনের দিকে চোখ পড়ে খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলনসহ অন্যান্য জোট সঙ্গীদের।
তবে সাংগঠনিকভাবে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী অবস্থানে থাকা জামায়াতের নেতা-কর্মীরা আসনটি ধরে রাখতে বরাবরই আত্মবিশ^াসী ছিল।
এরআগে, ১০ দলীয় জোটের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সোনারগাঁও -সিদ্ধিরগঞ্জ আসন শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হতে পারে এমন গুঞ্জনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন সকাল থেকেই ইকবাল হোসাইন ভূইয়ার বাড়িতে অবস্থান নেয় নেতা-কর্মীরা। জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামীর হাইকমান্ড থেকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ইকবাল হোসাইন ভূইয়াকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে বলা হয়। সে মোতাবেক ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া জেলা আমির মাওলানা মমিনুল হক সরকারের নিকট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারও করেন। তবে প্রত্যাহারের আবেদন নিয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাওয়ার পথে ড. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়াকে অবরুদ্ধ করে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কাছাকাছি তার আইনজীবীর কক্ষে অবরুদ্ধ করে তালা লাগিয়ে দেন তারা। একপর্যায়ে মাগরিবের নামাজের সময় তালা খুলে দিলে তিনি (জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে) নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রত্যাহারের আবেদন নিয়ে গেলে নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ায় সেটি গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার রায়হান কবির।
এ ব্যাপারে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রিটার্নিং অফিসার রায়হান কবির বলেন, ড. ইকবাল হোসাইন ভূইয়া মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে এসেছিলেন বিকেল পাচটার পর। নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ায় আবেদনটি গ্রহন করতে পারিনি।

Post a Comment