সোনারগাঁও দর্পণ :
গত ২০ জানুয়ারী সোনারগাঁওয়ের জামপুরের অটোচালক সোহেল সোহেল হত্যার সাথে জড়িত দুই জনসহ মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মরদেহ উদ্ধারের ৩দিন পর নারায়ণগঞ্জ পিবিআই সদস্যরা শুক্রবার (২৩ জানুয়ারী) আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। পাশাপাশি চুরি হওয়া অটোরিক্সাটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সুজন ও শফিকুল ইসলাম হীরা হত্যাকাণ্ডের সাথে এবং বাকি ৩ জন মো. দুলাল মিয়া, মো. আব্দুর রহিম ও মো. আবুল কাশেম ছিনতাই বা চোরাই হওয়া অটোরিক্সা কেনাবেচার সাথে জড়িত। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আসামীদের কাছ থেকে এ সকল তথ্য পাওয়া গেছে।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ সূত্র জানায়, গত ২০ জানুয়ারী সোনারগাঁও উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মুছারচর এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে সাদিপুর ইউনিয়নের নয়াপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধি অটোচালক সোহেলের স্কচটেপ মোড়ানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে সোহেলের ভাই মহসিন বাদি হয়ে এ ঘটনায় হত্যা এবং হত্যা পরবর্তী গুম হওয়ার অভিযোগে মামলা করেন। পিবিআই মামলাটির অধিগ্রহণ নিয়ে তদন্তে কাজ শুরু করেন। তদন্তকালে সুজন ও শফিকুল ইসলাম হীরার নাম উঠে আসলে তাদের গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা গত ১৯ জানুয়ারী অর্থের অভাবে সোহেলকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে। স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, চুরি করা অটোরিক্সাটি রূপগঞ্জে একটি গ্যারেজে রেখে পরে সেটি আড়াইহাজারে বিক্রি করা হয়। পরে রূমগঞ্জ ও আড়াইহাজার থেকে মো. দুলাল মিয়া, মো. আব্দুর রহিম ও মো. আবুল কাশেমকে গ্রেফতার করে।
এরআগে, গত ১৯ জানুয়ারী দুপুরে অটোরিক্সা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় সোহেল। পরে রাতে আর বাড়ি ফিরে না যাওয়ায় তার ব্যবহৃত মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্নস্থানে অনেক খোঁজাখোজি করলেও কোন সন্ধান পায়নি। পরের দিন ২০ জানুয়ারী সকালে স্থানীয়রা মুছারচর এলাকায় রাস্তার পাশে স্কচটেপ দিয়ে মুখ, হাঁত ও পাঁ বাঁধা অবস্থায় মরদেহ পরে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিলে পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে সোহেলকে শনাক্ত করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম) জানান, আসামীদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
Post a Comment