সোনারগাঁও দর্পণ :
গত বুধবার (২১ জানুয়ারী) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে প্রচুর অবৈধ অস্ত্র মজুদ করা হচ্ছে। গাজারিয়ার একটি রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়ার চ্ছলে সোনারগাঁও বিএনপি’র একটি অংশের নেতা-কর্মীদের এমন একটি ভাইরাল হওয়া ভিডিও’র অভিযুক্ত বজলুর রহমান ওরফে ডন বজলুকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কেউ নিজের বলে স্বীকার করছেনা। তারা বজলুকে একে অপরের মতাদর্শী বলে দাবি করছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখাগেছে, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বজলুর রহমান ওরফে ডন বজলু ও তার কয়েকজন অনুসারী খাবার টেবিলে খাবার খাচ্ছেন। এ সময় তাদের মধ্যে একজন সোনারগাঁও এলাকায় প্রচুর অবৈধ অস্ত্র মজুদ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন। এই সময় ভিডিওতে বজলুর রহমানের পাশে বসা অপর একজন বজলুর রহমান ওরফে ডন বজলুকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা যায়, নির্বাচনের জন্য তাদের আরও দুটি অস্ত্র দরকার।
এদিকে, বিএনপি নেতা বজলুর রহমানের কোনো এক কর্মী তাদের এ কথোপকথনটি ভিডিও রেকর্ড করে এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেয়। এনিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দিনভর নারায়ণগঞ্জ পুরো জেলা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। শুধু তা-ই নয়, এ ভিডিও ফাঁসের পর নড়ে চড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
যদিও এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ-খ (সার্কেল) এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান আহম্মেদ ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি তিনি দেখেছেন এবং তা যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানান। এছাড়া পুলিশের একটি বিশেষ একটি টিমও ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে বলে জানান।
অপরদিকে, ভিডিও’র প্রধান অভিযুক্ত বজলু নিজেকে বিএনপির একনিষ্ঠ কর্মী ও সমর্থক দাবি করলেও মান্নান বজলুকে গিয়াস পক্ষের এবং গিয়াস উল্টো বজলুকে মান্নানের কর্মী-সমর্থক বলে পাল্টপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের দাবি, ভিডিওতে থাকা বজলুর রহমান ওরফে ডন বজলু বিএনপি প্রার্থী মান্নানের এক নম্বর লোক। সে সারাক্ষণ মান্নানের সাথে থাকে এবং উপজেলা বিএনপির কমিটির পদেও রয়েছে। তাকে জড়িয়ে যা বলা হচ্ছে সেটা অপপ্রচার। এছাড়া শুরুতেই তাকে (গিয়াসউদ্দিন) নিয়ে মিথ্যা বলা শুরু হয়েছে বলে দাবি করেন।
সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান দাবি করেন, বজলু স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে নির্বাচন করছে। আর ভাইরাল হওয়া ভিডিও’র বিষয়টি তার (মান্নান) জানা নেই।
অপরদিকে, বিএনপি নেতা বজলুর রহমান বিষয়টি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে অভিযোগ করে বলেন, তারা সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনার একসময় একজন সমর্থক তাকে একটি শর্টগান কেনার কথা বলেন। তিনি বিষয়টি উড়িয়ে দেন।
তিনি আরও জানান, সম্ভবত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে তার বৈধ শর্টগানটিও সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন। তার দাবি, তিনি আগা-গোড়া বিএনপি একজন কর্মী। আর যেহেতু, .দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী দলীয় প্রার্থীর পক্ষেই তিনি কাজ করছেন। এছাড়া, প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে ফাঁসানোর জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সোনারগাঁও থানার ওসি মহিববুল্লাহ জানান, অস্ত্র নিয়ে আলাপচারিতার ভিডিওর ব্যাপারটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল ইউনিট কাজ করে যাচ্ছে।

Post a Comment