সোনারগাঁও দর্পণ :
সরকারিকরনের আগে লেখাপড়ার মান ছিল চোখে পরার মতো। ছিল জেলার ৫টি ভালো মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঈর্ষা করার মতো একটি। অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অনেক প্রত্যাশা ছিলো প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক হিসেবে কাজ করার। করতে পারলে নিজেকে গর্বিত মনে হতো। যাদের ভাগ্য প্রসন্ন তারা শিক্ষক হিসেবে গর্বের সাথে পরিচয় দিত। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও তাই। আর সরকারি করনের পর শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন সর্বত্র। দাবি শিক্ষার মান ঠেঁকেছে তলানিতে।
স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টি এখন দুর্নীতির আতুরঘরে পরিণত হয়েছে। বলছিলাম নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়েনের ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী মোগগরাপাড়া এইচ,জি,জি, এস স্মৃতি বিদ্যায়তন বা মোগরাপাড়া হরিদাস, গৌর,গোবিন্দ, শ্যাম সুন্দর স্মৃতি সরকারি উচ্চ বিদ্যায়তনের কথা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চলতি বছরের ২১ সেপ্টেম্বর বিসিএস শিক্ষা প্রশাসনের মো: শাহ আলম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ পান। নিয়োগ হওয়ার পর থেকেই তিনি নিজেকে সর্বেসর্বা'র আসনে বসিয়ে করে যাচ্ছেন অনৈতিক যত কর্মকাণ্ড। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নিয়ম- নীতির তোয়াক্কা না করে স্কুলের ১৭শ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত বেতনের চেয়ে একশত টাকা বেশি নিয়ে প্রতি মাসে আদায় করছেন এক লাখ সত্তুর হাজার টাকা। এছাড়া সাথে অন্যান্য অদৃশ্য খরচ দেখিয়ে আদায় করছেন আরও একশত করে মোট দুই শত টাকা। অর্থাৎ, জনপ্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত খরচের চেয়ে দুই শত টাকা বেশি আদায় করছেন।
তারা জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে ১৭শ শিক্ষার্থী থাকলেও প্রধান শিক্ষক মাত্র ১৩/১৪ জন অভিভাবকের সাথে কথা বলে খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ এবং তাদের খরচের জন্য অতিরিক্ত টাকার কথা জানান। সে সময় উপস্থিত অভিভাবকদের মধ্যে মাত্র ৪জন সম্মতিসূচক স্বাক্ষর করেন।
যদিও অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের দাবি, স্কুলটিতে শিক্ষার্থী তুলনায় শিক্ষক অপ্রতুল। অতিরিক্ত যে টাকা নিচ্ছেন তা সেই সকল খন্ডকালীন শিক্ষকদের বেতন হিসেবেই নেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থী আসন নির্দিষ্ট থাকায় ভর্তি প্রক্রিয়া লটারি ভিত্তিতে হলেও সেখানেও সুকৌশলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিনা রিসিটে অফিস খরচের নামে আদায় করা হচ্ছে ১২ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা আবার কোন কোন ক্ষেত্রে এর চাইতেও বেশি।
অভিভাবকদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি সরকারি হলেও তারা সম্তানদের বেতন-ভাতা দিচ্ছেন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের চেয়েও বেশি। তারপরও প্রত্যাশা করেন, খরচ বেশি দিয়ে হলেও যেন লেখাপড়ার মান ভালো হয়। তা না হলে তখনই সমস্যা দেখা দিবে।
স্থানীয়দের দাবি, সকল দুর্নীতির অবসান ঘটিয়ে উন্নত শিক্ষা বিস্তারে ১৯৩৪ সাল থেকে স্ব-গৌরবে মোগরাপাড়া এইচ,জি,জি, এস স্মৃতি সরকারি
বিদ্যায়তনটি সুনামের সাথে যেভাবে তার শিক্ষা কার্যক্রম সুচারুভাবে করে এসেছে, সরকারি করনের পরও সে সুনাম সমুন্নত রেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও একইভাবে সঠিক ও গুণগত শিক্ষা প্রদান করবে, এমনটাই প্রত্যাশা।


Post a Comment