সোনারগাঁও দর্পণ :
প্রায় ৪শত বছরের পুরোনো ভবনের ছাঁদ ধ্বংসে আক্তার বানু নামে ষাটোর্ধ এক নারী আহত হয়েছে। রবিবার (৫ জানুয়ারী) মধ্যরাতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়েনের বিশেষ খানা গ্রামে দুর্ঘটনাটি ঘটে। আহত নারীকে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।
ঘটনাস্থলে গেলে আহত নারীর ভাতিজা নয়ন জানান, রাতে ভবন ধ্বংসের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে ছুঁটে আসেন। পরে তারা তাদের আহত চাচিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে আহত নারী ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহত নারীর নাতি আরাফাত জানায়, রাতের খাবার শেষে রাত প্রায় ১২ টার দিকে তারা শুয়ে পড়েন। হঠাৎ তাদের বসবাস করা ভবনে থাকা লোহা বা রড খুলে নিতে আসা চোরের উপস্থিতি টের পায়। চোর ধরতে বাইরে বের হোন। পরে চোর ধরতে ব্যর্থ হয়ে এসে পুনরায় শুয়ে পরেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে তারা শুয়ে পরার কিছুক্ষণ পরেই দোতলার ছাঁদ ধ্বংসে পরে। এতে তার দাদি আক্তার বানু মারাত্মক আহত হয়।
তার দাবি, চোরেরা প্রায় সময় এ ভবনসহ আশেপাশে থাকা অন্য ভবনে থাকা লোহা ও রড খুলে নিয়ে যায়। শনিবার দিবাগত রাতেও চোরের দল ভবনটিতে আসে এবং রড খোলার চেষ্টা করে। তারা টের পেয়ে চোরের দলকে তাড়া করে ঘরে প্রবেশের মিনিট দশেক পর ছাঁদটি ধ্বংসে পরে।
এছাড়া ভবনটিতে থাকা অন্যান্য পরিবারের সদস্যরাও জানায়, স্থানীয় বিপথগামী কিছু যুবক তাদের নেশার টাকা যোগাতে প্রায় ৩ শতাধিক বছরের পুরোনো ভবনগুলোতে থাকা রড ও লোহা প্রায় সময় খুলে নিয়ে যায়। এতে ভবনগুলো আরও ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠে।
স্থানীয়রা জানান, বিগত এক যুগেরও বেশি সময় আগে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ভবনগুলোকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষনা দিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভবনটিতে নিন্ম আয় ও মধ্যবিত্তের বেশ কয়েকটি পরিবারের বসবাস রয়েছে। এছাড়া রয়েছে, একটি সরকারি ইউনিয়ন ভূমি অফিস। যারা জীবন ঝুঁকি নিয়ে বসবাস ও চাকুরি করছেন, তারাও সবসময় থাকেন আতঙ্কগ্রস্থ।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


Post a Comment