সোনরাগাঁও দর্পণ :
সোনারগাঁওয়ে একই রাতে দুই বাড়িতে ডাকাতি পরবর্তী স্থানীয় যুবদল সভাপতির বাড়িতে ডাকাতদলের অগ্নিসংযোগের ঘটনার ৫ দিন অতিবাহিত হলেও কোন আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষুব্দ গ্রামবাসী আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
সোমবার (১১ মে) বিকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের পাঁচআনী ও চরগেয়ালদী মীর বহরকান্দী গ্রামের ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা এ ঘোষণা দেন।
স্থানীয় সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার বিকালে সরেজমিনে ইউনিয়নের চরগোয়ালদী শফিকুলের বাজার এলাকা গেলে স্থানীয়রা জানায়, গত ৭ মে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে চরগেয়ালদী মীর বহরকান্দী গ্রামের মৃত শফিকুলের তিন ছেলে রানা (৪৫), রাজু (৩৮) ও রাজিব (৩৬) এবং হযরত আলীর ছেলে জলিল ওরফে দালাল জলিল (৫৫) এর নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকার ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দেশীয় এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে একই এলাকার আলিম মিয়ার ছেলে প্রবাসী আবু কালামের বাড়িতে প্রথম হামলা করে।
বাড়ির নারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সাত ভরি স্বর্ণ, দুই লাখ নগদ টাকা. ৫টি মোবাইল, একটি ল্যাপটবসহ বিভিন্ন দামি জিনিস পত্র নিয়ে যায়। এ সময় বাড়িতে পর্যাপ্ত বয়সের কোন পুরুষ না থাকার সুযোগে ডাকাত দল নারীদের শ্লীলতাহানিরও চেষ্টা করে বলে নারীরা অভিযোগ করে।
পরে একই এলাকার রমিজের বাড়িতে স্বসস্ত্র ডাকাত দল হামলা করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়।
এদিকে, একই গ্রামে পরপর দুটি বাড়িতে ডাকাতি করে চলে যাওয়ার সময় রাত আনুমানিক ১২টার দিকে পাশর্^বর্তী চরগোরালদী গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি শহিদুল্লাহ সরকারের বাড়িতে হামলা করে ডাকাতরা।
এ সময় সরকার বাড়ি ও গ্রামের লোকজন টেরে পেয়ে ডাকাত-ডাকাত বলে চিৎকার শুরু করলে ডাকাতদল পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় শহিদুল্লার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে ডাকাতরা।
চরগোয়ালদী গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি শহিদুল্লাহ সরকার বলেন, ডাকাতির পর ভুক্তভোগী পরিবার থেকে থানায় অভিযোগ করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং দ্রুততম সময়ে আসামীদের আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু আসামী ও তার সহযোগিরা এলাকায় ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না।
এদিকে আসামীদের গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী জানান, আবারো কোন পরিবার ডাকাতির কবলে পরার আগে গ্রামবাসী ডাকাত বা তাদের সহযোগিদের পেলে নিজেরাই আইন হাতে তুলে নিবেন বলে হুমকী দেন।
তাদের দাবি, পুলিশ ভয়ে অভিযান করছেনা ফলে ডাকাতদের ধরছেনা। যেহেতু পুলিশ ভয়ে আসেনা, সেহেতু আমাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা আমাদেরই করতে হবে। তাই এলাকাবাসী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ আর ডাকাতদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
গ্রামবাসীরা জানায়, শুধু রানা বা তার ভাইরাই নয়, রানার স্ত্রী এলাকায় লেডী গুন্ডা হিসেবে পরিচিত। এই মহিলা রানাকে এলাকার সবচেয়ে বড় গুন্ডা আখ্যাদিয়ে তাকে কোন থানা পুলিশ বা এলাকার কেউ কিছু করতে পারবেনা বলে দাবি করে।
এ ব্যাপারে সোনারগাঁও থানায় সদ্য (১ মে ২০২৬ ইং) যোগদানকারী অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, এ ব্যাপারে থানায় কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। তাই কিছু বলতে পারছিনা।
ডাকাতির ঘটনার পর থানায় অভিযোগ করা হয়েছে এবং একজন এসআই (এস আই হারুন) ঘটনাস্থলেও গিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের এমন দাবির কথা পূণরায় জানালে তিনি পরক্ষণে আবারও দাবি করেন, থানায় কোন লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

Post a Comment