ভালো না লাগলে পদত্যাগ করুন, দলের বদনাম করবেন না -ডা.বিরুকে ইঞ্জিঃ মাসুম

সোনারগাঁও দর্পণ :

আমাদের সাথে আহবায়ক কমিটিতে না থাকতে চাইলে থাকবেন না। আপনি আপনার মতো করে চলতে চাইলে চলেন, কেউ বাঁধা দিবেনা। তবে, সংগঠনে থেকে সংগঠনের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কাজ করবেন তা হতে দেয়া হবেনা। ভালো না নাগলে আহবায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগ করুন কিন্তু ঐক্যবদ্ধ সোনারগাঁও আওয়ামী লীগকে বিতর্কিত করে দলের বদনাম করবেন না। বিকেলে চৌরাস্তায় উপজেলা আওয়ামীূ লীগের প্রধান কার্যালয়ে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট দেশের বর্বোরচিত গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্বরণে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সম্প্রতি ডা. বিরুর অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে এ আহবান করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ও পিরোজপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান ইঞ্জি: মাসুদুর রহমান মাসুম।  

মাসুম তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল বাংলাদেশকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য। আর ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ জনসভায় বঙ্গবন্ধুর কন্যার ওপর হামলা করা হয়েছিল আওয়ামী লীগকে শেষ করে দেয়ার জন্য। 

মাসুম বলেন, ৮ আগস্ট উপজেলা আহবায়ক কমিটির সভা হয়েছিল ঐক্যবদ্ধভাবে ১৫ আগস্ট পালনের জন্য। নেত্রী (শেখ হাসিনা) আমাদেরকে আহবায়ক কমিটি দিয়েছেন একসাথে কাজ করার জন্য। আমার নেতা ও শ্রদ্ধেয় বড়ভাই একেএম শামীম ওসমানও বলেছিলেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সাথে এ্যাড. সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া আর কায়সার হাসনাতকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ কর। নেতার নির্দেশে কিন্তু আমরা একসাথে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। 

এ সময় সম্প্রতি ডা. বিরুর ইচ্ছামতো কর্মকাণ্ডের বিষয়ে মাসুম বলেন, কিন্তু দলে সমস্যা করছে কারা। ৪ মাসও হয়নি এই পার্টি অফিসে হেফাজতের লোকজন হামলা করেছিল। এই কঠিন হামলার সময় তারা কোথায় ছিল। ৯০ সালে স্বৈরাচার আন্দোলনেতো দেখিনি। ২০০৪-৫ সালেতো দেখিনি। যখন ২০১৪-১৬ সালে সারা দেশব্যাপী বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসংযোগ করেছিল তখনতো তাদের টিকিটিও আমরা সোনারগাঁওয়ে দেখতে পাইনি।

আজকে যারা হাইব্রিট হয়ে এসেছেন তারা দলকে ভালবেসে আসেননি,দলকে শক্তিশালী করার জন্য আসেননি। আপনারা এসেছেন এমপি হওয়ার জন্য,এসেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য। 

এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্যেশে মাসুম বলেন, সত্যি কথা বলতে গিয়ে যদি আমার পদ-পদবি যদি নাও থাকে তাতে আমার কোন সমস্যা নেই কিন্তু সাংগঠনিক কোন প্রক্রিয়ার বাইরে আমরা নেই। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ মানেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হওয়া। ব্যক্তিগত যদি কোন দল করে থাকি সেটা আমার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু দল করলে দলের বাইরে গিয়ে, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা কাজ করবেন, দলের সদস্যরা কিন্তু এতো বোকা নয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীর হাড়ির খবর কিন্তু নেত্রী জানেন। কারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে কারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেনা সব খবরই নেত্রীর কাছে আছে। 

এসময় মাসুম জেলা কমিটির কাছে অনুরোধ করে বলেন, আপনারা যে আহবায়ক কমিটি করে দিয়েছিলেন, আমরা সবাই এক প্ল্যাটফর্মে অবস্থান করছি। কিন্তু যারা আহবায়ক কমিটির বাইরে থেকেছেন তারা কি আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটিতে থাকতে চাননা ? যদি আহবায়ক কমিটির সাথে এক হয়ে কাজ করতে না চান, তাহলে পদত্যাগ করা উচিৎ। আমি মনে করি স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে যদি আহবায়ক কমিটি ভালো না লাগে, তাহলে বলুন আপনাকে মানিনা, আপনার সাথে থাকতে চাইনা। কিন্তু কমিটিতে থাকবেন কিন্তু কমিটির সাথে মিলে কর্মসূচী করবেন না তাহলে এ দ্বৈতনীতি চলতে দেয়া যায়না। যদি এক সাথে থাকতে গিয়ে নিজের পদ-পদবি না থাকে তাতেও আপত্তি নেই। 

সবশেষে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং দোষিদের দ্রæত বিচারের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান তিনি।

এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, নারায়ণগঞ্জ - ৩ আসনের সাবেক সাংসদ আব্দুল্লাহ আল কায়সার, জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য আরিফ মাসুদ বাবু, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম নান্নুসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।


Post a Comment

[blogger]

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget