সোনারগাঁওয়ে এবার ৭০ ভাগ লিচু বাগান অবিক্রিত

সোনারগাঁও দর্পণ:

দেশের নারায়ণগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের লিচু সবার আগে বাজারে উঠে। তাই মৌসুমী এ রসালো ফলের দিকে সবারই ঝোক থাকে আলাদা। প্রতিবছর দেশের সকল স্থান থেকে মৌসুমী ফল ব্যবসায়ীরা লিচুর মুকুল দেখেই বাগান কিনে পরিচর্যা শুরু করেন। তবে এবার পুরোপুরিই ভিন্ন রূপ। 

গত বছর বর্তমানের চেয়ে কঠোর এবং বেশি করোনাতঙ্ক থাকালেও লিচু বাগান মালিকেরা তাদের লিচু বাগান কিছুটা ভাল দামে বিক্রি করেছিলেন। আর যারা ব্যবসায়ী বা পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে পারেননি তারা লোকবল দিয়ে নিজেরাই বিক্রি করে খরচ তুলতে পেরেছেন। হয়তো কোন কোন বাগাস মালিক কিছুটা লোকসানও গুণেছেন।

এবার গতবারের চেয়ে করোনা প্রকোপ বেশি হলেও লকডাউন কঠোর শুধু খাতা-কলম আর মানুষের মুখে মুখে। কিন্তু মাঠে কোন কাজই থেমে নেই। তারপরও এবার সোনারগাঁওয়ের লিচুবাগানের মালিকেরা পড়েছেন মহা বিপাকে। তারা বলছেন, এবার করোনা প্রকোপের চেয়ে বেশি সমস্যা আবহাওয়া অনুকুলে না থাকা। তারা বলছেন, বাগান মালিকেরা প্রতিবছর বাগানের পেছনে যে টাকা খরচ করেন কোন বারই তার চেয়ে কম করার সুযোগ নেই। বরং এবার যথা সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় তাদের খরচ পরেছে আগের চেয়ে বেশি। কারণ তারা টাকা খরচ করে গাছে পানির ব্যবস্থা করতে হয়েছে। কিন্তু গতবার কিছু পাইকার ও ব্যবসায়ীরা যোগাযোগ করে বাগান কিনলেও এবার সোনারগাঁওয়ের প্রায় ৭০ ভাগ লিচু বাগান এখনো রয়েছে অবিক্রিত। 

উপজেলার দরপর এলাকার বাগান মালিক দুলাল জানান, ব্যবসায়ী ও পাইকার যোগাযোগ না করায় তিনি কয়েকজনের সাথেই মোবাইলে যোগাযোগ করেছেন বাগান বিক্রির বিষয়ে। কিন্তু ফল ব্যবসায়ীরা তাদের জানান, এবার যথাসময়ে বৃষ্টি না হওয়ায় লিচু রসালো হবেনা। এছাড়া, টক এবং পোকার সংক্রমনের সম্ভাবনাও অনেক বেশি থাকবে বলে আশঙ্কা করছেন ফল ব্যবসায়ীরা। তাছাড়া, করোনা সংক্রমনে কখন কেমন লকডাউন হয় সে বিষয়টিও রয়েছে। তাই তারা এবার আর দেশীয় কোন ফল ক্রয়ের বিষয়ে তেমন কোন আগ্রহ নেই বলে জানায়। এমন কি শুধু খরচ উঠলেই বাগান বিক্রি করে দিবে বলে জানালেও মৌসুমী ফল ব্যবসায়ীরা আগ্রহ দেখায়নি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে মোটামুটি সব স্থানেই কমবেশি লিচু বাগান রয়েছে। তবে, উপজেলার পানাম, গোয়ালদী, খাসনগর দিঘিরপাড়,  লোকশিল্প যাদুঘর, চিলারবাগ, দৈলরবাগ, দত্তপাড়া, অর্জুনদি, ভট্টপুর, গোবিন্দপুর, বৈদ্যেরবাজার, হাড়িয়া, গাবতলী, কাটালপাড়া, দরপত, সাপেরবন্দ, হরিসপুর, তাজপুর, মোগরাপাড়া, বাড়ি মজলিশ, বাড়ি চিনিস, গোহাট্টা, সাদিপুরসহ ৩৫ থেকে ৪০টি গ্রামে রয়েছে ৫ শতাধিক লিচুবাগান। এবার এসকল লিচুবাগানের প্রায় ৭০ ভাগ বাগানই রয়েছে অবিক্রিত। বাগান মালিকেরা বেশি খরচ করে পরেছেন মহাবিপাকে। 


Post a Comment

[blogger]

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget