জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে কি লাভ হলো - প্রশ্ন আতঙ্কিত নেতাদের - সোনারগাঁও দর্পণ

শিরোনাম


 

Post Top Ad

Wednesday, April 21, 2021

জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে কি লাভ হলো - প্রশ্ন আতঙ্কিত নেতাদের

সোনারগাঁও দর্পণ :

“পইলা (প্রথম) বউ ছাড়লাম, চাইল (চাল) চাবানোর ( দাতে চিবিয়ে খাওয়া ) ডরে ( ভয়ে )। পরে বউ আইন্না (এনে) দেহি আছতা ( পুরো ) চাইলই ( চাল ) গিলে (খায়)”। বাংলার বহুল পরিচিত এ প্রবাদের মতোই অবস্থা যেন সোনারগাঁও বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেয়া নেতাকর্মীদের। গতকাল ২০ এপ্রিল (মঙ্গলবার) বিকালে সম্প্রতি বিএনপি থেকে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেয়া একাধিক নেতা-কর্মীর সাথে সোনারগাঁওয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বললে উপজেলা বিএনপির সাবেক এক নেতা এ প্রবাদ শুনিয়ে বলেন, আগেতো একেবারে খারাপ ছিলামনা। মোটামুটি সবার সাথে যোগাযোগ করে ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুই ঠিকঠাকই চলছিল। নিজের ঘরে বউ-সন্তানের সাথে ঘুমাইতাম। কোন ভুতে যে ভাই পাইছিল, জাতীয় পার্টিতে যোগ দিতে। যোগ দিলাম হামলা-মামলা থেকে বাঁচতে। এখন দেখি, সবই মরিচিকা। কপাল এতই খারাপ, যে পার্টিতে যোগ দিলাম হেই (সেই) পার্টি থেকে একটা প্রতিবাদও জানাইলনা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক নেতা বলেন-একটা বিষয় খেয়াল করলাম, যারা যারা বিএনপি থেকে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়েছে তাদের নাম মামলায়তো জাইতাছেই (যাচ্ছে) আর আগে গ্রেফতার অইতাছে (হচ্ছে)। আর যারা এখনো বিএনপি করে তারা আমাদের চাইতে সুখে আছে। আমরাতো বাড়িতে যাওয়া দুরের কথা, মোবাইলটা খুলে যে বাড়ির খোঁজ খবর নিব সে অবস্থাও নাই। মিয়া নিজেরে চোর মনে হয়। এমন যে আমি চুরি করছি, পুলিশ জাইননা (জেনে) ফালাইছে (ফেলেছে), ধরতে খোঁজতাছে (খুঁজছে)। তাই পলাইয়া (লুকিয়ে) থাকি।

তার সাথে থাকা অপরজন বলেন, আপনি দেখেন যারা বিএনপি’রতে (বিএনপি থেকে) জাতীয় পার্টিতে যোগ দিছে (দিয়েছে) যেমন-শম্ভপুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ, পৌরসভার এম এ জামান, পিরোজপুরের বিডিআর চেয়ারম্যান, পৌরসভার কাউন্সিলর ফারুক আহমেদ তপন, বৈদ্যেরবাজারের চেয়ারম্যান আব্দুর রব, আবু নাঈম ইকবাল, ত্রিবর্দীর (টিপুরদি) দুই ভাই (সম্ভবত উপজেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি সালাউদ্দিন আহমেদ এর ছেলে মিঠু ও লিটু), কাইকারটেকের নজরুল ইসলাম লিটু, পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফি, আষাঢ়িয়ার চরের আব্দুস সোবহান, ভেন্ডার শহিদ, পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর গরীবে নেওয়াজ। সবাই কিন্তু আসামী এর মধ্যেতো ৪/৫ রে (৪/৫জনকে) ধরছে। এখন হোনতাছি (শুনছি) আমাগ (আমাদের) ধরার লাইগা (জন্য) পাগল হইয়া গেছে। 

তা আপনারা আইনের আশ্রয় নেন। আগাম জামিনের ব্যবস্থা করেন না কেন - এমন প্রশ্নে দীর্ঘশ^াস ছেড়ে ‘হ ভাই যা কইছেন (বলেছেন) ভালই। আপনে কি মনে করছেন হেরা (পুলিশ ও মামলার বাদি) কোর্টে লোক না রাখছে। যাওয়ার আগেইতো কাম বাড়ি দিয়া দিব (ধরে ফেলবে)।


Post Bottom Ad