সোনারগাঁওয়ে আওয়ামীলীগ-বিএনপি’র সমর্থকদের সংঘর্ষ ; কি আছে নেপথ্যে - সোনারগাঁও দর্পণ

শিরোনাম

Post Top Ad

Thursday, November 17, 2022

সোনারগাঁওয়ে আওয়ামীলীগ-বিএনপি’র সমর্থকদের সংঘর্ষ ; কি আছে নেপথ্যে


সোনারগাঁও দর্পণ :

গতকাল বুধবার আধিপত্য টিকিয়ে রাখার পেশী শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মেঘনা শিল্পাঞ্চল শ্রমিক লীগ ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হালিমের সমর্থকদের সাথে উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফের সমর্থকদের মধ্যে যে সংঘর্ষ হয় তা উপজেলাই নয়, পুরো জেলায় আলোচিত ঘটনা। এ বিষয়ে স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম সংবাদও প্রকাশ ও প্রচার করে। অনেকের কৌতুহলেও শেষ নেই ঘটনার পেছনের ঘটনা জানতে। ‘সোনারগাঁও দর্পণ’ বরাবরই ঘঁনার পেছনের ঘটনা খোঁজার চেষ্টা করে। তাই দুই গ্রæপের প্রধান (আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হালিম ও বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ) এর সাথে কথা হয় ‘সোনারগাঁও দর্পণ’র। তাদের সাথে যে কথা হয় ‘সোনারগাঁও দর্পণ’ শুধু সেই কথোপকথনের বিশেষ অংশ এই প্রতিবেদনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে মাত্র।

আব্দুল হালিমর বক্তব্য 

আব্দুল হালিম ‘সোনারগাঁও দর্পণ’কে জানায়, গত ১১ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী যুবলীগের ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে পিরোজপুর ইউনিয়নের আষাঢ়িয়ার চর গ্রাম থেকে অন্যান্য নেতাকর্মীদের সাথে যোগ দেয় কিছু কর্মী। যে সকল কর্মীরা যুবলীগের অনুষ্ঠানে যোগদান করতে গিয়েছিল সে সকল কর্মীদেরকে আব্দুর রউফের কর্মী সমর্থকেরা আগামী ১০ ডিসেম্বরের পর দেখে নিবে। পাশাপাশি ১০ ডিসেম্বরের পর সোনারগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের কোন চিহ্ন রাখবে না বলে জানায় আব্দুর রউফের কর্মী সমর্থকেরা। এ নিয়ে তর্কবিতর্কের এক পর্যায় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ তথা আব্দুল হালিম সমর্থক কর্মীদের ধাওয়া করলে তারা আষাঢ়িয়ার চর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আশ্রয় নিলে সেখানে তারা হালিম সমর্থকদের মারধরের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি এবং ওই কার্যালয়ে থাকা চেয়ারটেবিল ভাঙচুর করে।

পরবর্তীতে আব্দুল হালিম এ ঘটনা শুনে তার সমর্থিত নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপি কার্যালয়ে গেলে তার সাথে থাকা নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হয়। সেখানে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা আহত হয়। একসময় বিএনপি নেতা আব্দুল জলিলকে রক্তাক্তবস্থায় মাটিতে পরে থাকতে দেখে চিকিৎসার জন্যে হাসপাতাল পাঠায়। 

বিএনপি নেতার বক্তব্য

বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হালিমের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সোনারগাঁও দর্পণ’কে বলেন, বিএনপি’র হাইকমান্ড থেকে নির্দেশনা আছে যে ১০ ডিসেম্বরের আগে কোন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সাথে কোন রকম দ্ব›েদ্ব জড়ানো যাবেনা। তাই তাদের গত হয়ে যাওয়া সম্মেলন নিয়ে কেন কোন বিষয়েই তাদের সাথে বিএনপি’র কোন কর্মী সমর্থকেরা কোন দ্ব›েদ্ব যায়নি। এছাড়া, বর্তমান ক্ষমতায় থাকা সরকারী দলের লোকদের সাথে কোন রকম ঝামেলায় যাওয়ার প্রশ্নই উঠেনা। এমনিতেই তারা মিথ্যা মামলা মাথায় নিয়ে বছরের পর বছর আদালতের বারান্দায় ঘুরছে। বরং শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধি হয়ে যাওয়া বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ আষাঢ়িয়ার চর এলাকায় তার বিকাশের দোকানে থাকাবস্থায় তার ভাই জলিলসহ তিনজন তার দোকানে যান এবং কথা বলতে থাকেন। এর কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে কোন কিছু বুঝার আগেই আব্দুল হালিম ৩০/৩৫ জনের একটি দল নিয়ে আব্দুর রউফের দোকানে প্রবেশ করেন এবং তাদের হাতে থাকা হাতুড়ি, লোহার রড, চাকু ও লাঠি দিয়ে আব্দুল জলিলসহ আরও দু’জনকে পেটাতে থাকে। এ সময় একজন জলিলকে মাথায় হাতুরি দিয়ে পেটাতে থাকে। এমন অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হালিম আব্দুল জলিলের বুকের নিচে সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত আহত করে। 

আব্দুর রউফের দাবি, আওয়ামী লীগের থানা এবং মেঘনা শিল্পাঞ্চল এলাকায় ভালো পদ বাগাতে, নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করতে পরিকল্পিতভাবে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের ওপর বর্বোরচিত হামলা করে। পরবর্তীতে নিজেরাই নিজেদের কার্যালয়ে ভাঙচুর করে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর করে।

যদিও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হালিম বিএনপি নেতা আব্দুর রউফের সকল অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে সকল সংবাদ প্রকাশ বা প্রচার করা হয়েছে তা সত্য বলে জানান।

এ বিষয়ে সোনারগাঁও থানার সেকেন্ড অফিসার ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইমরান হোসেন সোনারগাঁও দর্পণকে বলেন, এ বিষয়ে একটি পক্ষ থেকে মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।  



Post Bottom Ad