সোনারগাঁওয়ে পুলিশ হেফাজতে থাকা আসামীর পলায়ন !

সোনারগাঁও দর্পণ :

সোনারগাঁওয়ে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় আটককৃত এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে জনতা ! পরে থানায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে ফাঁকি দিয়ে আসামী পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে ! তবে পুলিশের দাবি, পুলিশের কাছে কোন আসামীকে কেউ বুঝিয়ে দেননি ! যদি কেউ অভিযুক্ত থেকেও থাকে সে বিষয়ে পুলিশকে কেউ অবগত করেননি ! 

স্থানীয়ভাবে জানাগেছে, সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলার বারদী ইউনিয়নে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় এলাকাবাসী টেরপেয়ে ডাকাতদলকে হানা দেয়। এ সময় আড়াইহাজার উপজেলার বাড়ীপাড়া এলাকার হযরত আলীর ছেলে শুক্কুর আলী নামের ডাকাত দলের এক সদস্যকে আটক করে এলাকাবাসী গণপিটুনি দেয়। গণপিটুনির একপর্যায় জনতার হাতে আটক শুক্কুর আলী জানায় তার সাথে সহযোগি হিসেবে সোনারগাঁও উপজেলার বারদী ইউনিয়নের  গোয়ালপাড়ার মামুন ও চেঙাকান্দি গ্রামের জামাল নামে আরো দু’জন ছিল। যারা এলাকাবাসীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যায়। 

পরে ওই ঘটনায় আলগীরচর এলাকার মৃত হানিফার ছেলে মোখলেসুর রহমান বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন।

আলগীরচর এলাকার মৃত হানিফার ছেলে মোখলেসুর রহমান জানান, ঘটনার পর জনতার হাতে আটক শুক্কুর আলীকে বারদি আশ্রমে দায়িত্বরত পুলশ সদস্যদের সহায়তায় আটককৃতের সাথে থাকা একটি চাঁপাতি, চাকু ও টাকাসহ প্রথমে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা করায় কিন্তু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের কথামত চিকিৎসা করাতে রাজি না হওয়ায় শুক্কুর আলীকে দেশীয় অস্ত্রসহ রাত ১২টার দিকে সোনারগাঁও থানায় ডিউটি অফিসারের কক্ষে রাখা হয়। এ সময় অভিযুক্তের সাথে পুলিশ আর মোখলেছুর ছাড়াও মোখলেছুরের ছেলে ছিল। সে সময় দায়িত্বরত কর্মকর্তা এএসআই আলমগীর হোসেনের কাছে একটি অভিযোগ করেন মোখলেছুর রহমান।

এদিকে, সকাল ৭টার দিকে থানায় দায়িত্বরত কর্মকর্তা এএসআই আলমগীর হোসেন, অভিযুক্ত শুক্কুর আলীকে ডিউটি অফিসারের কক্ষেই রাখেন এবং সে কক্ষে মাসুদ নামে অপরএক পুলিশ সদস্যও ছিল। এক সময় কিছু সময়ের জন্য ডিউটি অফিসার এএসআই আলমগীর হোসেন কক্ষের বাইরে যান। অপরদিকে, অভিযোগকারী মোখলেছুর রহমান তার ছেলেকে ফ্রেশ হওয়ার জন্য বাড়ি পাঠিয়ে দেন। এক পর্যায় অভিযোগকারী মোখলেছুর রহমানও প্রকৃতির ডাকে (প্রস্রাব) সাড়া দিতে বাইরে যান। তবে  যাওয়ার আগে সেখানে থাকা পুলিশ সদস্য মাসুদকে অভিযুক্ত জনতার হাতে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক শুক্কুর আলীকে দেখে রাখতে অনুরোধ করেন এবং পুলিশ সদস্য মাসুদও তাকে দেখে রাখার ভরসা দেন। 

মোকলেছুর রহমান জানান, মাত্র সর্বোচ্চ মিনিট দুয়েক পর পূণরায় ডিউটি অফিসারের কক্ষে এসে অভিযুক্ত আসামী শুক্কুর আলীকে দেখতে পাননি। বিষয়টি সাথে সাথে ডিউটি অফিসার এবং থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানকে জানান বাদি। পরে ওসি হাফিজুর রহমান দুই ঘন্টার মধ্যে আসামীকে আবারও আটকের ব্যবস্থা করবেন বলে বাদীকে আশ্বস্ত করেন (বাদি মোখলেছুর রহমানের বক্তব্য ভিডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত)। 

এ বিষয়ে জানতে সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা এএসআই আলমগীর হোসেনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি সোনারগাঁও দর্পণ’কে জানান, তার কাছে কোন আসামীকে কেউ বুঝিয়ে দেননি। যদি কেউ অভিযুক্ত থেকেও থাকে সে বিষয়ে পুলিশকে কেউ অবগত করেননি। 

 

Post a Comment

[blogger]

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget